1. nskibria2012@gmail.com : ns kibria : ns kibria
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ন

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনালাপে তিক্ততা, অনিশ্চয়তায় ইরান আলোচনা

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
  • ২২ বার পঠিত
২৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সাম্প্রতিক এক ফোনালাপকে ঘিরে দুই নেতার সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েনের আভাস মিলেছে। লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে মতবিরোধের জেরে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সোমবার (১ জুন) দুই নেতার মধ্যে ফোনে কথা হয়। ফোনালাপে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র ভাষায় গালমন্দ করেন এবং তার প্রতি ‘অকৃতজ্ঞতার’ অভিযোগ তোলেন। পরে বুধবার (৩ জুন) সম্প্রচারিত ‘পড ফোর্স ওয়ান’ পডকাস্টে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প জানান, আলোচনার সময় তিনি নেতানিয়াহুর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন, এটি রাগের বহিঃপ্রকাশ ছিল না; বরং লেবাননে সংঘাত অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইসরায়েলের অবস্থান তাকে বিরক্ত করেছিল। একইসঙ্গে তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো এবং তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও ইতিবাচক।

অন্যদিকে নেতানিয়াহু এই ঘটনাকে বড় কোনো সংকট হিসেবে দেখতে নারাজ। সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যেও কৌশলগত বিষয়ে মতপার্থক্য হতে পারে। তবে সেসব বিষয় সাধারণত দ্রুতই সমাধান হয়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে পার্থক্যই বর্তমান অস্বস্তির মূল কারণ। ওয়াশিংটন যখন ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে, তখন ইসরায়েল লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এ অবস্থায় তেহরানও স্পষ্ট করেছে, লেবাননের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ইসরায়েল প্রশ্নে চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে ইসরায়েল সম্পর্কে মার্কিন জনমতের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি প্রশাসনের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তাও মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে সমালোচনামুখর হয়েছেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বাস্তবতায় ট্রাম্পের জন্য নেতানিয়াহুর সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব বজায় রাখা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিহাস বলছে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে একাধিক মার্কিন প্রেসিডেন্টের নীতিগত মতবিরোধ হয়েছে। বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের সময়ও এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। তবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই ঘনিষ্ঠ বলে বিবেচিত হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা দুই দেশের সম্পর্ক ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

সূত্র: বিবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..