মোংলা প্রতিনিধি
সুন্দরবন থেকে অস্ত্র, গুলি ও বন্যপ্রাণী শিকারে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামসহ দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর এক সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা (ঢাকা) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, পূর্ব সুন্দরবনের আমুরবুনিয়া ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন ড্রেনের খাল এলাকায় করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে কোস্ট গার্ড ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে করিম শরীফ বাহিনীর এক সদস্যকে আটক করা হয়। অভিযানে ৪টি একনলা বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা গুলি, ৭৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি, ৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, একটি টেলিস্কোপ, একটি সোলার প্যানেল, একটি ব্যাটারি, একটি ওয়াকিটকি চার্জার, শিংসহ একটি হরিণের মাথা, তিন কার্টন সিগারেট, দুই বস্তা চাল এবং একটি কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়। এছাড়া বনদস্যুদের একটি আস্তানা ধ্বংস করা হয়।
পরে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাতে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পিসি বাড়ইখালি এলাকায় তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দস্যুতা ও বন্যপ্রাণী শিকারের কাজে ব্যবহৃত আরও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তি আল-আমিন বাচ্চু হাওলাদার (৪৫) মোরেলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। কোস্ট গার্ডের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে করিম শরীফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে সুন্দরবন এলাকায় ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধার করা অস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য আলামতসহ আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোস্ট গার্ডের চলমান দস্যু দমন অভিযানের কারণে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র বিভিন্ন সময় বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচার সত্ত্বেও দস্যু দমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।