নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘গৃহভিত্তিক নারী শ্রমিকদের কভিড-১৯ ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বলেছেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য ‘কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের উন্নয়ন করতে হবে’। তা না হলে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা যাবে না। সুতরাং শহরাঞ্চলের পিছিয়ে থাকা গৃহভিত্তিক শ্রমিকদেরও স্বীকৃতি দিতে হবে। তাদের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
আজ রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘কোয়ালিশন ফর দ্যা আরবান পুওর’ (কাপ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপকূলীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।
কাপ ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদা ফারুক রত্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের সদস্য সচিব আমিনুর রসুল বাবুল ও কাপের প্রোগ্রাম অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আ ম কাশেম মাসুদ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, শ্রমিক নেতা মো. আবুল হোসেন, সাংবাদিক ও গবেষক আশীষ কুমার দে, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, উন্নয়ন সমন্বয়ের কো-অর্ডিনেটর মো. জাহিদ রহমান, মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্রর মহাসচিব মাহবুল হক, কাপের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার রেবেকা সান ইয়াত।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মীর মোস্তাক আহমেদ রবি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। করোনাকালে সারাবিশ্বে জন-জীবনে নানা সংকট দেখা দিলেও তা সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছে সরকার। এই সময়ে অবহেলিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। দেশকে উন্নত করতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের ক্ষমতায় নিশ্চিত করা হয়েছে।
গৃহভিত্তিক শ্রমিকদের অবস্থান নিয়ে গবেষণার বিষয়টি ইতিবাচক উল্লেখ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা রবি বলেন, এই গবেষণার ফলাফল জাতীয় সংসদসহ সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে তুলে ধরা হবে। গৃহভিত্তিক শ্রমিকদের জন্য নীতিমালাসহ স্বতন্ত্র মজুরি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব করেন তিনি।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মতো গৃহভিত্তিক নারী শ্রমিকরাও কভিড-১৯ অতিমারীতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গৃহভিত্তিক নারী শ্রমিকদের ৮৭ শতাংশের কাজ বন্ধ থাকায় তারা ঋণ নিয়েছেন। ৯৪ শতাংশ শ্রমিকের কাজের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। ৭৮ শতাংশ শ্রমিক জানিয়েছেন, তাদের পণ্যের দাম আগের তুলনায় কমেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শতভাগ গৃহভিত্তিক নারী শ্রমিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ক্লাইমেট রিফিউজির (উদ্বাস্তু) সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে গৃহভিত্তিক শ্রমিকদের স্বীকৃতি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এ জন্য নির্দিষ্ট তালিকা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া সুপারিশে গৃহভিত্তিক শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ, পিছিয়ে পড়া অন্যান্য জনগোষ্ঠির ন্যায় তাদেরকে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার এবং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নে গৃহভিত্তিক শ্রমিকদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।
Leave a Reply