যোগাযোগ :

ঢাকা থেকে প্রকাশিত, সরকারি মিডিয়া তালিকা ভুক্ত, জাতীয়  দৈনিক যুগযুগান্তর পত্রিকায় ও যে যে টিভি... জেলা উপজেলা, বিশেষ প্রতিনিধি, ক্রাইম রিপোর্টার, বিভাগীয় প্রধান, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি নেওয়া হচ্ছে..। আগ্রহীদের সিভি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এন আইডি কার্ড এর কপি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট মেইল অথবা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর অনুরোধ করা হলো। প্রধান কার্যালয়: ২৮, দিলকুশা বানিজ্যিক এলাকা (১৯ তম তলা), সুইট # ১৯০৩, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০। মোবা: 01978268378, হোয়াটসঅ্যাপ: 01612268378, ইমেইল: nskibria2012@gmail.com, শাখা অফিস : ১৮৭/২ আরামবাগ, ঢাকা। প্রধান কার্যালয়: ২৮, দিলকুশা বানিজ্যিক এলাকা (১৯ তম তলা), সুইট # ১৯০৩, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০। মোবা: 01978268378, হোয়াটসঅ্যাপ: 01612268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com, শাখা অফিস : ১৮৭/২ আরামবাগ, ঢাকা।

জমে উঠেছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইফতার বাজার

জমে উঠেছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইফতার বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
পুরান ঢাকার চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী ইফতারির বাজার জমে উঠেছে রমজানের প্রথম দিন থেকেই। বিভিন্ন মুখরোচক ইফতারের সমাহারে পুরান ঢাকা এখন জমজমাট। তবে এবারে ইফতার সামগ্রী দামটা একটু বেশি বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের মতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বাড়ার কারণেই বেড়েছে ইফতার সামগ্রীর দাম। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইফতার মানেই চকবাজারের লোভনীয় খাবার। এখানকার ইফতারের বাহারি নাম আর স্বাদের সুনাম মুখে মুখে।

জানা যায়, মুঘল শাসন শেষ হলেও পুরান ঢাকায় মোঘলদের ইফতার রয়ে গেছে। ৪শ বছর আগে পুরান ঢাকার এ চকবাজারের ইফতারের সূচনা হয় মুঘল আমলে। আর তখন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এ চকবাজার। ঢাকা অনেক বিস্তৃত হয়েছে সব দিকেই। কিন্তু ব্যবসায়ীক বিবেচনায় গুরুত্ব হারায়নি চকবাজার। কালের বিবর্তনে চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী ইফতারির বাজার যেন এক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

রমজানের সেই উৎসব দেখা গেছে। চকবাজারে নানা স্বাদের মুখরোচক খাবারের মনকাড়া সুবাস চারদিকে। আর সেই সুবাসকে আরও এগিয়ে দিচ্ছে বিক্রেতার হাঁকডাক ‘বড় বাপের পোলায় খায় ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়’। চকের ইফতার বাজারের সেই পরিচিত দৃশ্য। মূলত চকবাজারের দুপুর গড়াতেই শাহী মসজিদকে কেন্দ্র করে এর আশপাশেই বসে ইফতারির দোকানগুলো। ফুটপাথ থেকে শুরু করে সড়কের মাঝপথেও রয়েছে দোকান। এসব দোকানে রমজানের প্রথম দিন থেকেই বড় আকারে ইফতারির আয়োজন হয়।

এখানে ঐতিহ্যবাহী ইফতার পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত খাবার হচ্ছে ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়’। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার এটি। এ খাবারটি মোট ৩৬টি আইটেম ও ১৮টি মসলা দিয়ে তৈরি করা হয়। গরুর মগজ, গরুর কলিজা, মুরগির মাংসের কুচি, সুতি কাবাব, মাংসের কিমা, ডিম, আলু, ঘি, বুটের ডালসহ নানা পদের খাবার ও নানা ধরনের মসলার মিশ্রণে খাবারটি তৈরি করা হয়। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা।

এছাড়া খাসির কাবাব প্রতি কেজি ৮০০, গরুর কাবাব কেজি ৬০০ টাকা। খাসির রানের রোস্ট প্রতি পিস ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি ছোট মুরগির রোস্ট ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, কবুতরের রোস্ট ১৩০ টাকা। এ ছাড়া চিকন জিলাপি কেজি ১২০ টাকা, বড় শাহী জিলাপি ২০০, দইবড়া কেজি ১৮০ থেকে ২০০, চিকেন স্টিক পিস ৭০ থেকে ৯০, জালি কাবাব ২০ থেকে ৪৫, বিফ স্টিক ৪০ থেকে ৬০, কিমা পরোটা ৩০ থেকে ৫০ টাকা, টানা পরোটা ২০ টাকা পিস, হালিম (বাটির আকারভেদে) ৬০ থেকে ৩০০ টাকা, ডিম চপ ১৫ টাকা, সমুচা ৫ থেকে ১০, পনির সমুচা ৫, পিয়াজু ৫, আলুর চপ ৫, বেগুনি ৫ টাকায় বিক্রি করা হয়।

সুতি কাবাব, জালি কাবাব, টিক্কাসহ নানা পদে সাজানো হয়েছে টেবিল। রোজাদারের তৃষ্ণা মেটাতে রয়েছে লাবাং, মাঠা। আর সঙ্গে আছে পেশতা শরবত আর লাচ্ছি। মৌসুমি ফলের শরবতেরও রয়েছে বিশাল আয়োজন। আছে ফলের সমাহার।

ইফতার সামগ্রীর দাম বাড়তি প্রসঙ্গে বিক্রেতা মোহাম্মদ ফারুক সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, গরু ও খাসির মাংসের দাম অনেক বেড়েছে। এ ছাড়া ছোঁলা, চিনিসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও বাড়তি। এ জন্যই ইফতার পণ্যের দাম বেড়েছে।

গুলশান থেকে চকবাজারে ইফতারি কিনতে আসা শাহজাহান আলী বলেন, এখন বিভিন্ন জায়গায় বাহারি ইফতার বিক্রি হয়। তারপরও চকবাজারে আসি ইফতার কিনতে। এখানে আসলে আলাদা এক ধরনের ভালো লাগা কাজ করে। আরিফ হাসান নামের আরেক এক ক্রেতা বলেন, প্রতিটি জিনিসের দাম বেশি। যাদের অতিরিক্ত টাকা আছে তারা ছাড়া এখান থেকে কিনে খাওয়া কষ্টকর। সুমাইয়া ইসলাম নামে আরেক ক্রেতা বলেন, দাম বেশি। কিন্তু প্রতি বছরই এখান থেকে ইফতারি কিনি। কারণ এখানে ভিন্নধর্মী অনেক মজাদার ইফতারসামগ্রী পাওয়া যায়।

বিক্রেতা জব্বার হাজি জানান, চকবাজারের ইফতারিতে এমন কিছু পদ আছে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এ ছাড়া এখানকার খাবারের মধ্যে এক ধরনের নবাবি স্বাদ ও আমেজ রয়েছে। এখানকার ইফতারের দাম তুলনামূলক একটু বেশি। তবে ঐতিহ্যেরও একটা মূল্য আছে।

রানা মিয়া নামের এক ক্রেতা বলেন, দিন দিন অনেক খাবার মানহীন ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। এর পেছনে রয়েছে চকবাজারের ঐতিহ্যের নাম ভাঙিয়ে একশ্রেণির মৌসুমি ও মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের ভেজাল খাবার পরিবেশন। এখানকার খাবার পরিবেশন করা হয় খোলা আকাশের নিচে। অনেকে নামমাত্র ছাউনি ব্যবহার করে, অনেকে তাও করে না। ধুলাবালি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলে রান্না ও খাবার পরিবেশন।

খিলগাঁও থেকে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আফজাল হোসেন পছন্দসই ইফতার কিনতে এসেছেন। তিনি জানান, ৭শ টাকায় একটি খাসিরলেগ রোস্ট, ৩শ টাকা একটি আস্ত মুরগি, ২শ টাকায় দইবড়া, ৩০০ টাকায় এক কেজি পেস্তা বাদামের বোতল ও ৫০টাকা করে ৩০০ টাকায় ৬টা টানা পরোটা কিনেছেন। দাম একটু বেশি হলেও চকবাজারের ইফতারের মজাই আলাদা বলে জানান তিনি।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 jujugantor.com
Theme Customized BY SpacialNews.Com