কক্সবাজার প্রতিনিধি,
কক্সবাজারে ফুটবল টুর্নামেন্ট কেন্দ্র করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং টিকিট কেলেঙ্কারির ঘটনায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় দু’জনের নাম উল্লেখ করে প্রায় ১ হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন৷
তিনি জানান, খেলাকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়ামে ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও টিকিট কেলেঙ্কারির ঘটনায় পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে। তিনি বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।
মামলায় টিকিটের ইজারাদার ইব্রাহিম বাবু ও শাফায়াত হোসাইন মুন্নার নাম উল্লেখ করে ৫০০/৭০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়। অপরদিকে, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আরেকটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। মামলায় ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. ইলিয়াস খান।
এর আগে, শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন। এসময় জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন শাহিন উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, গণপূর্তকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গতকালের ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার বিবরণ দিতে। তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষ্যে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে খুব সুনামের সঙ্গে বেশকিছু ম্যাচ সমাপ্ত হয়েছে। কখনও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।
পুলিশ সুপার সাইফুদ্দীন শাহীন জানান, লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়েছে খেলায়। হঠাৎ এমন একটি ঘটনা সামাল দিতে তৎক্ষণাৎ প্রস্তুত ছিল না পুলিশ । পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও আনসার সদস্যরা ছিলেন। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এতকিছুর পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধৈর্যের সঙ্গে ঘটনা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এ ঘটনায় উস্কানিদাতা, সুবিধাবাদীদের ভিডিও ফুটেজ শনাক্ত করে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি টিকিট কেলেঙ্কারির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার সাইফুদ্দীন শাহীন আরও জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তদন্ত শেষে জানা যাবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গত শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা উচ্ছৃঙ্খল দর্শকদের তাণ্ডবে পণ্ড হয়ে যায়। এসময় জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয় ও গ্যালারিতে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। এ ঘটনায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকসহ অর্ধশত আহত হন।
Leave a Reply