নেত্রকোনা প্রতিনিধি,
৮ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অংশ নিয়েছেন নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগের উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মাকসুদুর রহমান ওরফে মাসুক। জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় তার হাতে হাতকড়া পড়ানো ছিল।
বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ছয়টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে দাফন শেষে আবারও তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মাকসুদুর রহমান খালিয়াজুরি উপজেলা সদরের বড়হাটি এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার বিকেলে মাকসুদুর রহমানের বাবা ফজলুর রহমান বার্ধক্যের কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান। পরে পরিবারের লোকজন প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলে জেলা প্রশাসন তাঁকে আট ঘণ্টার জন্য মুক্তি দেয়। পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যানে করে তাঁকে মদন উপজেলার উচিতপুর ফেরিঘাটে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ইঞ্জিন চালিত একটি ট্রলারে করে খালিয়াজুরি কলেজরোড এলাকায় ফেরিঘাটে নেওয়া হয়। পরে ফেরিঘাট থেকে পায়ে হেঁটে খালিয়াজুরি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে তাঁর বাবার লাশ দাফনের জন্য পূর্ব খালিয়াজুরি আবোড়া কবর স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের কয়েকজন জানান, বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় মাকসুদুর রহমানের দুই পাশে দুইজন পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। যদিও ওই দুই পুলিশ সদস্য জানাজায় অংশ নেয়। এছাড়া তাঁকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছিল বেশ কিছুসংখ্যক পুলিশ। এ সময় তাঁর বাম হাতে হাতকড়া ছিল। হাতকড়ায় দড়ি লাগিয়ে একজন পুলিশ সদস্য তা ধরে রেখেছিল।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত বছরের ১৬ জুলাই খালিয়াজুরি উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে গত ২ জুলাই মজলু মিয়া নামের এক বিএনপি নেতা একটি মামলা করেন। বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা এই মামলায় নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ-মদন-খালিয়াজুরি) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাজ্জাদুল হাসানকে প্রদান করে ১৮৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় ১৬ নম্বর আসামি মাকসুদুরকে গ্রেফতার করে ১৩ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনা আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
হাতকড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, জানাজার সময় তার এক হাতে হাতকড়া ছিল। আসলে তিনি তো বন্দি। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তার এক হাতে হাতকড়া ছিল।
Leave a Reply