আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে চলমান সহিংসতা থামছে না। টানা চার দিনের বিক্ষোভ-সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্য এবং পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) স্থানীয় কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
চার দিনের টানা সহিংসতা
সহিংসতার সূত্রপাত সোমবার, যখন মুজাফফরাবাদসহ আশপাশের শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ঠেকাতে গেলে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর থেকেই পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। ফলে বাইরের দুনিয়া পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র জানতে পারছে না।
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বুধবার মুজাফফরাবাদের একটি সেতুতে দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করছে।
স্থবির জনজীবন
বিক্ষোভের কারণে কাশ্মীরের স্বাভাবিক জীবন প্রায় থেমে গেছে।বন্ধ রয়েছে স্কুল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন। স্থানীয়রা চরম ভোগান্তির শিকার। পুরো অঞ্চল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সহিংসতা থামাতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি এবং আলাদা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সরকার কাশ্মীরিদের সমস্যা সমাধানে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল বলেছেন, “আমরা আশা করি আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।”
বিক্ষোভকারীদের দাবি
বিক্ষোভ আয়োজকরা জানিয়েছেন, তারা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন।
নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা শওকত নওয়াজ মীর বলেন, “আমরা যখন বলি হাসপাতালে ওষুধ নেই, তখন কর্তৃপক্ষ অর্থের অভাবের কথা বলে। অথচ বিলাসবহুল জীবনের জন্য তাদের কোনো ঘাটতি নেই।”
Leave a Reply