লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি,

দলবল নিয়ে চর দখলে গিয়ে কৃষকদের বাধায় ফিরে গেলেন বিএনপি নেতারা
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা একটি চর দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল কাদের, সদস্য মো. রিপন ও মো. মিলনের বিরুদ্ধে। তবে স্থানীয় কৃষকদের বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত তারা ফিরে যান।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে মজুচৌধুরীর হাট থেকে দুটি ট্রলারে করে দলবল নিয়ে মেঘনার চরে যান তারা। দিনভর চরটি দখলের চেষ্টা চালিয়েও সফল হননি বলে স্থানীয় কৃষকেরা জানান। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা বিভিন্ন চরের আগাছা পরিষ্কার করে চাষাবাদের উপযোগী করে তুলেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এসব জমিতে তারা ধান, সয়াবিন ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। তবে এসব চরের ওপর দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের নজর রয়েছে। মাঝেমধ্যে ভোলা জেলার লোকজনও চর দখলের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা এসব প্রতিহত করে চরগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।

চরের কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, একটি চর চাষাবাদের উপযোগী করার পর সেটির ওপর নজর পড়ে বিএনপি নেতা আবদুল কাদের, রিপন ও মিলনের। রোববার সকালে তারা প্রায় অর্ধশত লোকজন ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মজুচৌধুরীর হাট থেকে নদীতে যান। তবে চরে থাকা কৃষকেরা আগে থেকেই সতর্ক থাকায় সেখানে ভিড়তে পারেননি তারা। পরে দুপুরের দিকে নৌপুলিশ ও থানা-পুলিশ নদীতে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

কৃষকদের অভিযোগ, বিএনপি নেতারা চরের জমির ভাড়া বাবদ প্রতি একর ২০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। এতে কৃষকেরা রাজি না হওয়ায় তাদের উচ্ছেদ করে চরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চররমনী মোহন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল কাদের বলেন, “আমাদের কিছু নেতা-কর্মী চরে পিকনিক করতে গেছে। চর দখলের মতো কিছু নেই। আর এসব চর এখনো আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের লোকজন দখলে রেখেছে। সেখানে সাধারণ কোনো কৃষক নেই। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।”

 

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য দুই পক্ষকেই ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”