স্টাফ রিপোর্টার, সাভার:

সাভারের কুল্লা থেকে শুরু করে তেঁতুলঝোড়া এবং আশুলিয়ার ধামসোনা—প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের কর্মজীবনের প্রতিটি স্টেশন যেন দুর্নীতির এক একটি ‘লুটনের কারখানা’। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছেন অনিয়মের নিজ্ব সাম্রাজ্য। রাতারাতি ‘আংগুল ফুলে কলাগাছ’ বনে যাওয়া এই কর্মকর্তা সম্প্রতি ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে বনগাঁও ইউনিয়নে বদলি হলেও সাভার জুড়ে তাকে নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। ‘দৈনিক সত্যবার্তা’-র অনুসন্ধানে সাভার কাঁপানো এই কর্মকর্তার জাদুকরী উত্থান ও রাজকীয় সম্পদের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
তিন ইউনিয়নে ‘লুটনের রাজত্ব’
অনুসন্ধানে জানা যায়, ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদে আসার আগে আবুল কালাম আজাদ সাভারের কুল্লা এবং পরবর্তীতে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের দোসর বনে গিয়ে তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে কায়েম করেন অঘোষিত আধিপত্য। ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদটিকে তিনি ব্যবহার করেছেন কেবল নিজের পকেট ভারী করার হাতিয়ার হিসেবে। তিন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তার সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিলেন।
ট্যাক্স ও লাইসেন্সের কোটি কোটি টাকা গায়েব
সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল হওয়ায় প্রতি বছর শত শত কলকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়। কালামের মূল ‘আলাদিনের চেরাগ’ ছিল এই খাতটি। ট্রেড লাইসেন্স ফি ও ইউপি ট্যাক্স বাবদ আদায় করা কোটি কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি নিজে আত্মসাৎ করেন। প্রতিষ্ঠানিক এই জালিয়াতির ‘ম্যাজিককেই’ সাধারণ এক কর্মচারী থেকে তিনি বনে যান কোটিপতি।
গরিবের হক মেরে ৬ তলা প্রাসাদ
একসময়ের সাধারণ ও আর্থিক টানাপোড়নে থাকা পরিবারের সন্তান হলেও কুল্লা, তেঁতুলঝোড়া ও ধামসোনার মানুষের হক মেরে কালাম আজ আজ বিপূল বিত্ত-বৈভবের মালিক। সাভার পৌর এলাকায় তিনি গড়ে তুলেছেন ৬ তলা বিশিষ্ট একটি বিলাসবহুল প্রাসাদসম ভবন। শুধু তাই নয়, পরিবারের সদস্যদের নামে কিনেছেন একাধিক অভিজাত ফ্ল্যাটসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, যা সত্যি প্রমাণ এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।
ধামসোনা থেকে বনগাঁওয়ে বদলি: ক্ষোভে ফুঁসছে জনগণ
ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদে থাকাকালীন তার দুর্নীতির মাত্রা সব সীমা ছাড়িয়ে গেলে চারিদিকে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এর জের ধরে সম্প্রতি তাকে তড়িঘড়ি করে বনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে বদলি করা হয়। তবে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেবল ‘বদলি’র মতো হালকা শাস্তিতে সন্তুষ্ট নন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। ধামসোনা, কুল্লা ও বনগাঁওয়েৰ সচেতন নাগরিকদের দাবি—আওয়ামী লীগ মহলের দোসর এই আবুল কালাম আজাদের অবৈধ সম্পদের হিসাব দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মারফত তদন্ত করে তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে।