আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প/ ফাইল ছবি: হোয়াইট হাউজ
মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের অনুরোধে ইরানের ওপর ‘পূর্বনির্ধারিত’ হামলা স্থগিত ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরের সব দেশের জন্যই গ্রহণযোগ্য হবে।’

 

তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে থমকে থাকা আলোচনায় ঠিক কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প জানান, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মতো আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যস্থতার কারণেই তিনি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন।

পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি যুদ্ধমন্ত্রী (প্রতিরক্ষামন্ত্রী) পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যানিয়েল কেইন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি যে, আগামীকাল ইরানে আমাদের যে নির্ধারিত হামলা চালানোর কথা ছিল, তা আমরা করছি না।’

তবে একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তি না হলে যে কোনো মুহূর্তে ইরানের ওপর পূর্ণমাত্রায় বড় ধরনের হামলা চালানোর জন্য সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।

ট্রাম্পের দাবি, ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্যই এই যুদ্ধ জরুরি ছিল। সোমবারের পোস্টে পরমাণু অস্ত্রকে ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হবে—ইরান কোনো পরমাণু অস্ত্র রাখতে পারবে না।’

পরমাণু কর্মসূচির পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও নৌবাহিনী ভেঙে দেওয়া এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। অন্যদিকে ইরান এই দাবিগুলোকে ‘অতিরিক্ত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের দাবি, তাদের জব্দ করা বিদেশি সম্পদ অবমুক্ত করতে হবে এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

এর আগে সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তার সরকার যে কোনো মূল্যে দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে। তিনি বলেন, ‘সংলাপ মানে আত্মসমর্পণ নয়। ইরান মর্যাদা ও কর্তৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে এবং জনগণের আইনি অধিকার থেকে এক চুলও পিছপা হবে না।’