নিজস্ব প্রতিবেদক

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেছেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা, উন্নত বীজ এবং বহুমুখী পাটপণ্যের প্রসারের মাধ্যমে বর্তমান প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়কে ভবিষ্যতে ৫ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলারের শিল্পে উন্নীত করা সম্ভব।’

মঙ্গলবার (১৯) বহুমুখী পাটপণ্য মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, একসময় দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস ছিল পাট। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছিল পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে। কিন্তু বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয় ৫০ থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও পাট খাতের অবদান প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

তিনি জানান, পাট খাতের টেকসই উন্নয়নের প্রথম শর্ত হলো উন্নত মানের পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া।

বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ৬ হাজার টন পাটবীজের চাহিদা থাকলেও বড় অংশ আমদানি করতে হয়। এ নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয়ভাবে মানসম্মত বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাট শিল্পের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপ্লব এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এতে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে, তেমনি পাটচাষি ও সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবনমানও উন্নত হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, পাট ও চামড়া খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক বাজার উপযোগী নতুন পণ্য ও নকশা তৈরিতে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো দ্রুত আধুনিকায়নের মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগও চলছে।

৫ দিনব্যাপী বহুমুখী পাটপণ্য মেলা আগামী ২৩ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।