ক্রিয়া প্রতিবেদক
নাহিদ রানা যেন ত্রাসের নাম পাকিস্তানের ব্যাটারদের কাছে। ৪৩৭ রানের পাহাড় তাড়া করতে নামা পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম উইকেট নেন তিনি। এবার ফেরালেন ৬ রান করা সৌদ শাকিলকে। এর পরপরই ৭১ রান করা পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের পঞ্চম উইকেট তুলে নেন তাইজুল।

নাহিদের ওয়াইডিশ ইয়র্কারে ব্যাট ছুঁইয়ে লিটনের গ্লাভসে ক্যাচ দেন শাকিল। আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নেন তিনি। যদিও তাতে কোনো লাভ হয়নি। তৃতীয় আম্পায়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখলে ছাড়তে তাকে হয় মাঠ। ১৫৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় সফরকারীরা।

তাইজুলের স্পিনে শর্ট লেগে মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ৭১ রান করা শান। দুই নতুন ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে আছেন সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। ১৬২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের জন্য দরকার আরও ২৭৫ রান।

লাঞ্চের আগে দুই উইকেট হারালেও হাল ধরেছিলেন বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ। দুজন মিলে ৯০ রানের জুটিও পার করে ফেলেন। অস্বস্তি শুরু হয় স্বাগতিকদের। তবে সেই অস্বস্তি দূর করেছেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম বাবর আজমকে ফিরিয়ে।

সিলেটে ৪৭ রান করা বাবর তাইজুলের বলে সাজঘরে ফেরেন। যদিও ভালো বলে আউট হননি তিনি। লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার পথে তার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে লিটনের গ্লাভসে। ১৩৩ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা। ৪টি চার ও একটি ছক্কায় ইনিংসটি সাজিয়েছেন তিনি।

বাবরের বিদায়ে ভাঙে শান মাসুদের সঙ্গে ৯২ রানের জুটি। তবে অধিনায়ক শান মাসুদ অপরাজিত ছিলেন ফিফটি করে। তার সঙ্গে যোগ তখন দেন নতুন ব্যাটার সৌদ শাকিল। বোর্ডে তখন তাদের রান ৩ উইকেটে ১৩৭। জয়ের জন্য দরকার আরও ৩০০ রান। দলীয় ২৭ রানে নাহিদ রানার বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আব্দুল্লাহ ফজল। ৬ রান করে ফেরেন সাজঘরে। দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মেহেদি হাসান মিরাজ।

আজান আওয়াইস পারেননি ৪৯ বলে দুই চারে ২১ রান করার পর লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন মিরাজের বলে। দলীয় ৪১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় পাকিস্তান।

এর আগে, তৃতীয় দিনের খেলা শেষে দুই ওভারে কোনো রান করতে পারেনি পাকিস্তান। মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানকে শাসন করে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে অলআউট হওয়ার আগে বাংলাদেশ করে ৩৯০ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ লিড নেয় ৪৩৬ রান। ফলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য আসে ৪৩৭ রানের।