আন্তর্জাতিক ডেস্ক ;

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে চার বছরে রুশ শিবিরে নিহত হয়েছেন প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। এই নিহতদের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক উভয়েই রয়েছেন।

এ ছাড়া আহত হয়েছন আরও প্রায় ১৫ লাখ। ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাজ্যের সেনাপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল রিচ নাইটন গতকাল শুক্রবার এই দাবি করেছেন।

সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় এয়ার চিফ মার্শাল নাইটন বলেছেন, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ওপর একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। সেই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৫ লাখ রাশিয়ান প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সামরিক-বেসামরিক উভয়েই আছেন।

নিহত এবং আহতদের অধিকাংশই সামরিক বাহিনীর সদস্য। শুক্রবারের ভিডিওবার্তায় যুক্তরাজ্যের সেনাপ্রধান বলেন, এসব নিহতের ঘটনা সিংহভাগই ঘটেছে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে; আর এই বিপুল সংখ্যক প্রাণের বিনিময়ে ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের মাত্র ২ শতাংশ দখল করতে পেরেছে রাশিয়া।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট পুতিনের একটি অন্যায্য লক্ষ্য অর্জনের জন্য কীভাবে মানুষের জীবন অর্থহীন এবং বৃথাভাবে অপচয় হচ্ছে— তা আমাদের চোখের সামনে তুলে ধরছে নিহতের এই সংখ্যা। এই পরিসংখ্যান আরও বলছে, রাশিয়ার অন্তত পাঁচ লাখ বিষণ্ণ-অন্ধকার বাড়ির দেওয়ালে নিহত সেনাদের ছবি ঝুলছে। রাশিয়ার পাঁচ লাখ পরিবার তাদের বাবা, ভাই, ছেলে কিংবা স্বামীকে আর কখনও দেখতে পাবে না।

পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অবশ্য বলেছেন যে যুদ্ধের জেরে বিপুল সংখ্যক প্রাণহানি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়া সত্ত্বেও ইউক্রেন ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের লক্ষ্যে কোনো পরিবর্তন এসেছে— তেমন কোনো ইঙ্গিত তারা এখনো পাননি।

ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত মিনস্ক চুক্তির শর্ত ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য কিয়েভের তদবিরকে ঘিরে কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েন চলার পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে অভিযান শুরু করে রাশিয়ার সেনাবাহিনী। প্রেসিডেন্ট পুতিন নিজে এ অভিযান শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

শুক্রবার এই নারকীয় যুদ্ধের এক হাজার ৬৬০ দিন পূর্ণ হয়েছে। রেকর্ড বলছে, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রুশ সেনাবাহিনী যতদিন যুদ্ধক্ষেত্রে ছিল, তার চেয়েও বেশি দিন তারা কাটিয়ে ফেলেছে ইউক্রেন যুদ্ধে।

সূত্র: স্কাই নিউজ