তোফায়েল মাহমুদ ভূইয়া বাহার কুমিল্লা :
ক্রাইম সিনের ভিডিও দেখে আবদুল ওয়াদুদ মানিক (২৪) নামে এক যুবক কিলার বনে যায়। একে একে তিন অটোরিকশা চালককে খুন করার স্বীকারোক্তি করেন যুবক। মানিক ছিলেন মেধাবী ছাত্র, পেয়েছেন গোল্ডেন প্লাসসহ ট্যালেন্টফুল বৃত্তি। পরিবারের অনুমতি ছাড়া দু’ বাচ্চার মাকে বিয়ে করায় পিতা-মাতা তাকে আলাদা করে দেয়। এরপর থেকে তাদের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলাহোল শুরু হয়। একপর্যায়ে যুবক মানিক বিষন্নতায় ও মানসিক চাপে পড়েন। টার্গেট করেন ১৫-১৮ বছর বয়সী অটোরিকশা চালকদের। হত্যা করে মজা পেতেন যুবক মানিক। অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে আদালত থেকে জামিন পেতো মানিক।

থানা সূত্র জানা যায়, নাঙ্গলকোট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাহিদুল ইসলাম সবুজ গত ২৪ জুলাই অটো চালাক আরমানের নিখোঁজ ডায়রীর তদন্ত পায়। এরপর এসআই নাহিদ জিডির তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে ভিকটিম আরমানের শেষ লোকেশান পায় নাথেরপেটুয়া এলাকার। পরে ওই এলাকায় পুলিশ গিয়ে তল্লাশী চালিয় নিখোঁজ আরমানের তথ্য পায়নি। এরপর পুলিশ ভিকটিমের মোবাইল ট্যাকিং করলে ডিবি অফিসে মোবাইলটি পাওয়া যায়। পরে ডিবি অফিসে কথা বললে তারা জানায় আটককৃত আসামী মানিকের কাছে মোবাইলটি পাওয়া গেছে। পরে এস আই নাহিদ পুনরায় যুবককে শ্যোন এরেস্ট করে তিন দিনের রিমান্ডে থানা নিয়ে আসে। এরপর আসামী আবদুল ওয়াদুদ মানিক লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।
এতে মানিক বলেন, হত্যা করে সে মজা পেতো।
কিশোর অটোরিকশা চালকদের অতিরিক্ত ভাড়ার লোভ দেখিয়ে নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর তার সহযোগিদের সহায়তায় অটো-চালকদের মুখ ও হাত-পা বেঁধে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে লাশ পরিত্যাক্ত স্থানে ফেলে দিতো। অটোরিকশা গুলো মনোহরগঞ্জের উত্তর হাওলা সেলিমের নিকট বিক্রি করতো। এভাবে চলতো তার জীবন। প্রায় সময় মোবাইলে ক্রাইম প্রেট্রোল দেখতো।

মানিক আরো জানায়, জেসমিন আক্তার প্রিয়া নামের দুই বাচ্চার মাকে বিয়ে করার পর থেকে তার জীবনে আসে কালো ছায়া। তার স্ত্রী সব সময় কাবিনের ৩০ লাখ টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতো। তার অতিষ্ঠে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন মানিক। একপর্যায়ে অটো চিন্তাই ও চালকদের হত্যায় জড়িত হয়ে যায়। মানিকের ৩-৪ জন সহযোগী রয়েছে।

নাঙ্গলকোট থানার এসআই নাহিদ আহমেদ সবুজ বলেন, মোবাইলের সূত্র ধরে মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করায় ২৪ সালের’সহ তিন খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আমার মতে সে একজন চাইকো কিলার। হত্যা করে পৈষাশিক আনন্দ পেতো। শীগ্রই মামলার চার্জশিট আদালতে প্রেরণ করা হবে।