বিনোদন প্রতিবেদক :

১৫ লাখের মতো পান তৌসিফ, বকেয়া পারিশ্রমিক ভুগিয়েছে শামীম-বাসারকেও
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অভিনেতা ও কবি রিফাত চৌধুরী। আর্থিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁকে। মেটাতে পারছেন না নিজের চিকিৎসা ব্যয়। চলতে হচ্ছে চেয়ে-চিন্তে।

অভিনেতার দাবি নাট্যাঙ্গনে অনেকের কাছে পারিশ্রমিক বকেয়া রয়েছে তার। এ দুর্দশার পেছনে সম্মানী বুঝে না পাওয়াও বড় কারণ বলে মনে করেন তিনি। শুধু রিফাত নন, অনেকেই এর শিকার। বাদ যান না তারকা শিল্পীরাও। পরিচালক-প্রযোজকের কাছে জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবের প্রায় ১৫ লাখ টাকা আটকে আছে। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময় পারিশ্রমিক বুঝে পাননি শামীম হাসান সরকার, খায়রুল বাসারও।

তৌসিফের দাবি, অভিনয়জগতের প্রায় প্রতিটি শিল্পীর পারিশ্রমিক কমবেশি আটকে থাকে। ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো শিল্পী নেই, যার সঙ্গে বকেয়ার ঘটনা ঘটেনি। হয়তো কেউ লজ্জায় বলে না। কেউ আবার অন্যকে অসম্মান করতে চান না বলে বলেন না।’

অভিনেতা জানান ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধযুগ ঠিকমতো পারিশ্রমিক পাননি তিনি। জমতে জমতে বড় অঙ্কে রূপ নিয়েছে তা। যা বুঝে পাননি আজও। এ নিয়ে ক্ষোভ নেই। মাফ করে দিয়েছেন বলে জানালেন। তার কথায়, ‘বাজারে কম হলেও আমার ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে আছে। যেহেতু আমি নায়ক, আমার অ্যামাউন্টগুলো বড় বড় ছিল। তবে যেগুলো বকেয়া আছে সেগুলো মন থেকে মাফ করে দিয়েছি। হয়তো আমার চেয়ে তাদের বেশি প্রয়োজন ছিল।’

পারিশ্রমিক বকেয়া রেখে যারা একসময় ঠকিয়েছেন তাদের সঙ্গে এখনও কাজ হয় তৌসিফের। কিন্তু আগের পারিশ্রমিক নিয়ে কোনো কথা হয় না বলে জানালেন অভিনেতা।

অভিনেতা খায়রুল বাসারেরও রয়েছে এমন অভিজ্ঞতা। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে বকেয়া পারিশ্রমিক ভুগিয়েছে তাকে। বলেন, ‘তিন-চারটি প্রজেক্টের টাকা এখনও পাইনি। বহু বছর হয়ে গেছে, তাই পাওয়ার আশাও বাদ দিয়েছি। হয়তো এক-দুইবার বলতে পেরেছি, কিন্তু বারবার সম্মানী চাওয়াটা সম্মানের মনে হয় না। তাই আর চাইনি। তবে এখন আর এমনটা ঘটে না।’

এখন পরিচালক-প্রযোজক বেছে কাজ করেন খায়রুল বাসার। সহশিল্পী বা কলা কুশলীদের পাওনা আটকে রাখবে এমন টিমের সঙ্গে কাজ করেন না বলে জানান তিনি। বললেন, ‘সহশিল্পীদের পেমেন্ট না পাওয়ার অভিযোগ তেমন একটা দেখিনি। কেউ অভিযোগ করলে পরিচালকদের অনুরোধ করে বলি, “ওনার টাকাটা দেওয়া হয়নি, দিয়ে দেন।” তবে সচরাচর এমন অভিযোগ চোখে পড়ে না। কারণ আমি ওইরকম টিম, প্রজেক্টের সঙ্গেই থাকতে চাই না। আর প্রোটাগনিস্টকে টাকা দেওয়ার সঙ্গে বাকিদের টাকা না পাওয়ার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে এমন ঘটে যে, দিচ্ছি-দিচ্ছি করে সময় চলে যায়। ওই ধরনের পরিচালকদের বোঝা উচিত, যদি কাজ সামলাতে না পারেন, তবে সরে যাওয়া উচিত। কারণ এটা আপনার কাজ না।’

কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের সুবাদে তৌসিফ-বাসারের মতো অভিনেতা শামীম হাসান সরকারের পারিশ্রমিক এখন বকেয়া থাকে না। তবে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ভুগতে হয়েছে। সে অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বলেন, ‘আমার ১১ বছরের অভিনয় জীবন। প্রথম ৩-৪ বছর এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তখন দুই-তিন হাজার টাকার পেমেন্ট পেতেও হিমশিম খেতে হতো। আট-নয় মাস টাকা আটকে থাকত। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত পাওনা টাকা দিয়েছে। শুরুর দিকে নিয়মিত পেমেন্ট না পাওয়ার কষ্টটা অন্য সবার মতো আমারও ভোগ করতে হয়েছে। এখন প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের কারণে পেমেন্ট বকেয়া রাখার সুযোগ দিই না।’

শামীম জানান পরিবারে সচ্ছলতা না থাকলে অভিনয়ে আসতেন না, চাকরিতে থিতু হতেন। কেননা অনেক সময় পারিশ্রমিক নিয়ে জটিলতা হলেও দুরবস্থার সম্মুখীন হতে হয় না তাকে। পরিবার থেকে সাপোর্ট পান তিনি। পকেটে টাকা না থাকলেও বাসায় খেয়ে-পরে টিকে থাকতে পেরেছেন। তবে পাওনা টাকা সময়মতো হাতে না আসায় খালি পকেটে চলার অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। সেখানেও উতরে গেছেন পরিবারের কারণে। বলেন, ‘একবার পরিবারের সাথে মিশর ও দুবাই ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল। তখন একজন প্রযোজকের কাছে ৩০-৪০ হাজার টাকা পাওনা থাকলেও একটি টাকাও পাইনি। ফলে ফাঁকা পকেটে পরিবারের সাথে বিদেশ ভ্রমণে যেতে হয়েছিল। দেশে ফেরার কয়েক মাস পর ঠিকই পেমেন্ট পেয়েছিলাম। সেই সময় বাসা ভাড়া বা পরিবার থেকে বের করে দিলে অভিনয় পেশায় টিকে থাকতে পারতাম না।’

পারিশ্রমিক আদায়ে সংগঠনগুলোও কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে না বলে মনে করেন তৌসিফ। অভিনয় শিল্পীদের সংগঠনের ভূমিকা প্রসঙ্গে এ অভিনেতা বলেন, ‘ওনারা অনেক চেষ্টা করেন। ডিরেক্টরকে ডাকেন, ডিরেক্টরকে বসানোর চেষ্টা করেন। তিনি একটা ডেট দিয়ে যান। এভাবে চলতে থাকে। তবে এগুলো আমার সঙ্গে হয়নি। কখনও পাওনা উদ্ধারের জন্য অভিযোগ করিনি। কারও প্রতি কোনো অভিযোগ নাই। দুই-তিনবার চাওয়ার পর যখন না দেয়, তখন বোঝা যায় আর দেবে না।’

পারিশ্রমিক আদায়ে অভিনয় শিল্পী সংঘ ও ডিরেক্টর গিল্ডের ভূমিকা নিয়ে শামীম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘সংগঠনের সেই অর্থে কাউকে বাধ্য করার মতো ক্ষমতা নেই। এটি কোনো চাকরি নয় যে, চাইলেই জোর করে টাকা উদ্ধার করে দেবে। যার যার ব্যক্তিগত বোঝাপড়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে হয়।’

আক্ষেপের সুরে খায়রুল বাসার বলেন, ‘সংগঠনে বিচার দিয়ে লাভ কী? তারা বলবে, “হ্যাঁ, কিছুদিন পর দিয়ে দেব, আমাকে সময় দিতে হবে।” এগুলোর বড় কারণ হলো অব্যবস্থাপনা। ইন্ডাস্ট্রিতে যারা এমন করেন, ওনাদের ম্যানেজমেন্টে দক্ষ হওয়া উচিত। কাজের প্রতি সৎ হওয়া উচিত। নিজের কথা বিবেচনার পাশাপাশি, এই কাজের সঙ্গে জড়িতদের কথাও বিবেচনা করা উচিত।’