ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্তকে নিরাপদে হেফাজতে নেয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাহিদুল (১৭) নামে এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশুটিকে হত্যার পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে আটক করে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর পুলিশ জাহিদুলকে স্থানীয়দের কাছ থেকে হেফাজতে নিয়ে আশুগঞ্জ থানায় যায়।
নিহত শিশু আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের এক সৌদি আরবপ্রবাসীর মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়ত। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরে হাসপাতালের মর্গে মরদেহ দেখতে যান জেলার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
নিহতের চাচা জানান, অভিযুক্ত জাহিদুল সম্পর্কে শিশুটির চাচাতো ভাই। সে আলাদা একটি বাড়িতে থাকত এবং মাদকাসক্ত ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। শুক্রবার তাদের বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। দুপুরে পানি খেতে চাইলে জাহিদুল শিশুটিকে পানি এনে দেওয়ার কথা বলে নিজের ঘরে নিয়ে যায়।
পরে শিশুটির মা ছোট ছেলেকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে বাড়িতে ফিরে মেয়েকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় জাহিদুলের ঘরের দরজার সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। সন্দেহ হলে ঘরের ভেতরে গিয়ে বিছানায় দুই হাত ও দুই পা বাঁধা এবং ঘাড়ে আঘাতের চিহ্নসহ শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মা মনিরা বেগম জানান, তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। নিহত শিশুটি তাঁর মেঝো মেয়ে। তিনি ছোট ছেলেকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে পাশের বাজারে গিয়েছিলেন। বাড়িতে ফিরে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে জাহিদুলের ঘরে গিয়ে মেয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। এরপর পাশের একটি ঘর থেকে মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনির হোসেন বলেন, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।
1
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা জাহিদুলকে আটক করে একটি বাড়িতে নিয়ে রাখেন।
এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা জাহিদুলকে আটক করে একটি বাড়িতে নিয়ে রাখে। একপর্যায়ে শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। পুলিশ তাকে হেফাজতে নিতে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
বেলা সোয়া ৩টার দিকে পুলিশ ওই বাড়িটি ঘেরাও করে। পরে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশসহ জেলা শহর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দীর্ঘ চেষ্টার পর জাহিদুলকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয় এবং থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, স্থানীয় লোকজন জাহিদুলকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়। এ সময় তিন থেকে চার হাজার মানুষ উত্তেজিত হয়ে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও লোকজনের সহায়তায় তাকে নিরাপদে হেফাজতে নেয়।