মোঃ আবু জাফর মন্ডলঃ
গাইবান্ধা জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা অত্যন্ত গুরুত্ব ও মর্যাদার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মোঃ জসিম উদ্দীন। সভায় জেলার বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জ, তদন্ত কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় পুলিশ সুপার বলেন, বর্তমান সময়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল, মানবিক ও পেশাদার হতে হবে। তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, মাদক, সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ দমনে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা প্রদান করেন। একইসঙ্গে সরকারি যানবাহন, অস্ত্র ও অন্যান্য সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশ জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। তাই প্রতিটি সদস্যকে সততা, নিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়েই পুলিশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।”
কল্যাণ সভায় পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন দাপ্তরিক সমস্যা, আবাসন, চিকিৎসা, ছুটি, খাদ্য ও অন্যান্য কল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা হয়। পুলিশ সুপার সদস্যদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন। এসময় দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে প্রশংসা করা হয়।
সভা শেষে দীর্ঘদিন সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পর অবসর গ্রহণকারী এক সিভিল সদস্যকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত কর্মকর্তারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। বিদায়ী মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন ও আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ।
পরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিভিন্ন থানার অপরাধ প্রবণতা, মামলা নিষ্পত্তির অগ্রগতি, ওয়ারেন্ট তামিল, মাদকবিরোধী অভিযান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তা বিষয়ক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
পুলিশ সুপার জেলার প্রতিটি থানাকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, “জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনী সর্বদা সচেষ্ট। একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও সেবামুখী পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
সভা দু’টি জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।