ইকবাল বাহার, প্রতিনিধি

কানাইঘাট উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সীমান্তজুড়ে বেড়ে ওঠা চোরাচালান ও মাদকের বিস্তার নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সভায় বিশেষ করে সীমান্তবর্তী সুরইঘাট ও বড়বন্দ এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চোরাচালান বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এসময় বিজিবির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় উপজেলা সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মেহেদী হাসান শাকিল।

সভায় জানানো হয়, সীমান্ত দিয়ে দিন-রাত অবৈধভাবে ভারতীয় চিনি, জিরা, চা-পাতা, কসমেটিক্স, কাপড়, নাসির বিড়ি ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্য দেশে প্রবেশ করছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে চোরাই পণ্য আটক হলেও সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দেওয়া হয় না। ফলে সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

এ অবস্থায় সীমান্ত এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে নিয়মিত চেকপোস্ট স্থাপন, টাস্কফোর্স অভিযান জোরদার এবং আটক চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় ইউএনও মোঃ মেহেদী হাসান শাকিল কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, “সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির কোনো অজুহাত গ্রহণ করা হবে না। বিদ্যমান জনবল দিয়েই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। আগে যদি চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়ে থাকে, এখন কেন নয়-বিষয়টি বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

তিনি আরও বলেন, চোরাই মালামাল আটক করার পর অবশ্যই চোরাকারবারীদের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করতে হবে। পাশাপাশি সমন্বিত টাস্কফোর্স অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ, পশুর হাটে নিরাপত্তা জোরদার এবং নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশ ও বিজিবিকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনাও দেন ইউএনও।

সভায় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশের চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত চলছে। ইয়াবা ও মাদক উদ্ধারেও পুলিশ উল্লেখযোগ্য সফলতা পেয়েছে। তবে বিজিবি আটককৃত চোরাই পণ্যের ঘটনায় নিয়মিত মামলা দিলে চোরাচালান অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি মাদক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অন্যদিকে, সুরইঘাট বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার জাফর আলী সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করে বলেন, সুরইঘাট ও বড়বন্দ সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি হিমশিম খাচ্ছে। তবে সম্প্রতি সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি ও ২৪ ঘণ্টা টহল জোরদার করা হয়েছে। তিনি জানান, ক্যাম্পে যোগদানের পর মাত্র ২৭ দিনে প্রায় ৯১ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্য আটক করা হয়েছে।

সভায় উপজেলাজুড়ে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিটি ইউনিয়নে মাদক ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রণয়ন, গ্রেফতার অভিযান জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া লোভাছড়া পাথর কোয়ারী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ এবং পাথর পরিবহনের কারণে সড়কগুলোর বেহাল অবস্থার বিষয়টিও সভায় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন দিঘীরপাড় পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী, সাতবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান আবু তায়্যিব শামীম, বড়চতুল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক চৌধুরী, সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আফসার উদ্দিন চৌধুরী, দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিনসহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।