ইঞ্জিঃ খান মোঃ নওতাজ,
বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানে অবরুদ্ধ সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে জামায়াত আয়োজিত জনসভায় যেতে দেননি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার তারা প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা মন্ত্রীকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। তখন বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি হয়। একপর্যায়ে মন্ত্রী ফিরে যান এবং নদীর প্রান্ত দুমকী উপজেলায় একটি জনসভায় বক্তৃতা করেন।
জানা গেছে, গতকাল দুমকী ও বাউফলের মধ্যবর্তী লোহালিয়া নদীর বগা ফেরিঘাট পয়েন্টে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা দেখতে সেখানে যান সেতুমন্ত্রী। এ উপলক্ষে পটুয়াখালী-৪ (বাউফল) আসনের এমপি ও ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বাউফলের বগা ফেরিঘাট এলাকায় জনসভার আয়োজন করেন। তিনি ওই জনসভায় অংশ নিতে সফরসঙ্গীদের নিয়ে প্রথমে বাউফলে যান। নিজ দলের নেতাকর্মীরা তাঁকে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখায় তিনি ফেরি পার হয়ে পুনরায় দুমকী প্রান্তে ফিরে যান এবং সেখানে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় বক্তৃতা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম দুপুর ১টার দিকে ফেরিতে বাউফল প্রান্তে পৌঁছান। মন্ত্রীর সঙ্গে এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জেলা নেতারা জনসভার মঞ্চের দিকে রওনা হলে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করে পথ আটকে দেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জামায়াত এমপির জনসভা মঞ্চের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি দেওয়া হয়নি।
বিএনপির বিক্ষোভের সময় উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের কাছে পরাজিত বাউফলের সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক তছলিম তালুকদার, সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজসহ দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
এ প্রসঙ্গে তছলিম তালুকদার বলেন, সভাস্থলের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সেতুমন্ত্রীকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
জামায়াতের এমপি শফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইলে কল দিলে তিনি সাড়া দেননি। তবে বাউফল উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি খালিদুল ইসলাম বলেন, ‘একটি বড় উন্নয়নকাজ বগা সেতুর বিষয়টি আমরা দলীয়ভাবে নিতে চাইনি। তাই জনসভার ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিল না। স্থানীয় এমপি ও সেতুমন্ত্রীর ছবি দিয়ে ব্যানার করা হয়। এটিকে অজুহাত দেখিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা মন্ত্রীকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।’