মোঃ আবু জাফর মন্ডলঃ

আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার পাশাপাশি প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথাও বলা হয়েছে। তবে এমন নানা আশ্বাসের বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে এবং মাঠপর্যায়ে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব হবে—এখন সেটিই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গাইবান্ধা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে দেশের ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রেও সরকার সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।
তবে নির্বাচনকে ঘিরে শুধু ঘোষণা নয়, মাঠপর্যায়ে নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভোটাররা যাতে কোনো ধরনের চাপ, প্রভাব বা প্রতিবন্ধকতা ছাড়া ভোট দিতে পারেন, সে জন্য নির্বাচনের আগে থেকেই কার্যকর প্রস্তুতি এবং নির্বাচনের দিন কঠোর নজরদারি প্রয়োজন হবে।
মতবিনিময় সভায় বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে রুফটপ সোলার ব্যবস্থার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভবন বা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি তবে কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত সার ন্যায্যমূল্যে পাওয়া যাচ্ছে কি না। ফলে সারসংকট নিয়ে রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা, ডিলার পর্যায়ের বিতরণ এবং কৃষকের বাস্তব অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর আগে গাইবান্ধায় পৌঁছালে সার্কিট হাউসে প্রতিমন্ত্রীকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সভা শেষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত সভায় অংশ নেন তিনি।