আইন-আদালত

পলাতাক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে তিন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীকে মারধর ও দুটি চেম্বার ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির একটি পক্ষের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার (১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার আইনজীবীরা হলেন সানোয়ার মল্লিক, শাহীন খান ও তানিয়া সুলতানা। তারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ–সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে কয়েকজন আইনজীবী কর্মসূচির আয়োজন করেন। এর প্রতিবাদে গতকাল বেলা ১১টার দিকে আদালত চত্বরে মিছিল করেন সদর উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা–কর্মী ও সমর্থক। মিছিলটির নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ।

অভিযোগ আছে, মিছিল থেকে কয়েকজন সানোয়ার মল্লিককে জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের সিঁড়িতে মারধর করেন। পরে তাকে টেনে আদালত ভবনের সামনে এনে আবার মারধর করা হয়।

সানোয়ার মল্লিক অভিযোগ করেন, দুই দিন আগে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কয়েকজন আইনজীবী মিলে কেক কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ ঘটনার জেরেই বিএনপির কয়েকজন নেতা–কর্মী বুধবার আদালত চত্বরে মিছিল করেন। ওই মিছিল থেকে মাহবুব মোর্শেদ ও তার ছেলে মিহির তাকে মারধর করেন। হামলাকারীরা রড দিয়ে পিটিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেছেন। তাঁদের ভয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেননি। স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে আত্মগোপনে আছেন।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাহবুব মোর্শেদ। তিনি বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নামে কিছু লোক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি করে থাকেন। এর প্রতিবাদে বিএনপি আদালত চত্বরে মিছিল করেছে। সেই মিছিল থেকে সংক্ষুব্ধ হয়ে কেউ কিছু ঘটিয়ে থাকতে পারে। কারা ঘটিয়েছে, তা আমি বলতে পারব না।’

মিছিল শেষে বিএনপির কয়েকজন নেতা–কর্মী ও সমর্থক আইনজীবী সমিতির পাশে একটি ভবনে থাকা শাহীন খান ও তানিয়া সুলতানার চেম্বারে যান বলে অভিযোগ করেন ওই দুই আইনজীবী। তাদের অভিযোগ, সেখানে তাদের মারধর ও চেম্বার ভাঙচুর করা হয়।

তানিয়া সুলতানা বলেন, ‘বিএনপির ৩০ থেকে ৩৫ জন শাহীন খান ও আমার চেম্বারে প্রবেশ করেন। ভয়ে শাহীন টয়লেটে পালিয়ে যান। হামলাকারীরা টয়লেটের দরজা ভেঙে আমাকে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। আমরা আতঙ্কিত হয়ে বিষয়টি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আইনজীবী সমিতিকে জানিয়েছি।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, পুলিশ আদালতে পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।