জেলা প্রতিনিধি মোঃ ফয়সাল

ফাইল ফটো

মেহেদী হাসান , রাঙামাটি : রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেছেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার। এ সময় জেলার বিভিন্ন সমস্যা, জনদুর্ভোগ, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ ও পর্যটনসহ নানা বিষয়ে সাংবাদিকরা তাদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার। অনুষ্ঠানে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, শাশ্বত চাকমা, বিলটু চাকমা, মো. তোফাজ্জল হোসেন ও নন্দিতা দাশ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস হোসেন, রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও দৈনিক গিরিদর্শন সম্পাদক নন্দন দেবনাথ, চ্যানেল-০১-এর জেলা প্রতিনিধি মনসুর আহমেদ, এটিএন নিউজের জেলা প্রতিনিধি ইমতিয়াজ কামাল ইমন, দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি মিশু দে, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক রাঙামাটি জেলা সভাপতি নির্মল বড়ুয়া মিলনসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদ সদস্য ও সাংবাদিকসহ আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ জন অংশ নেন।

শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা রাঙামাটির বিভিন্ন সমস্যা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয় তুলে ধরেন। বিশেষ করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়মিত না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানান তারা। এ সময় সাজেক ভ্যালিতে নির্বিচারে গাছপালা নিধন, হাতির আক্রমণ এবং এর ফলে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। একই সঙ্গে সাজেকের পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান সাংবাদিকরা। তারা বলেন, সাজেকের পরিবেশ ও পর্যটন ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণ করা গেলে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ রাঙামাটির সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার বলেন, রাঙামাটিতে খেলাধুলার প্রসার এবং যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন স্থানে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাঙামাটিবাসীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন ও দারিদ্র্যমুক্ত রাঙামাটি গড়ার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকার থেকে ব্যাংকগুলোতে ফান্ড প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর প্রতি নির্দেশনা থাকবে, যাতে বেকার যুবকদের মাত্র ৫ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়। এর মাধ্যমে বেকারত্ব কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দীপন তালুকদার বলেন, আমি স্বাধীনতাকামী বিশ্বাস করি। আমি যতদিন দায়িত্বে থাকব, আমার দ্বারা কোনো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন নাএ বিষয়ে আপনারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় শুধু সাংবাদিক নয়, পুরো রাঙামাটিবাসীর জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু আমরা অবশ্যই করার চেষ্টা করব।