আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এক স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। বুধবার হামলায় তিনি নিহত হন বলে চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
নিহত ওই ব্যক্তি ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের হয়ে কাজ করছিলেন। চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সূত্রটি আনাদোলু এজেন্সিকে জানায়, উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছে আহতদের সহায়তায় যাওয়ার সময় বিমান হামলায় তিনি নিহত হন।
এদিকে, ইসরায়েলি বাহিনীর পৃথক হামলায় আরও কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন এক কিশোরও বুধবার মারা গেছে।
চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানায়, উত্তর গাজার জাবালিয়ার আবু হোসেন স্কুলের কাছে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। দক্ষিণ গাজায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ফিলিস্তিনি কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত মাসে খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণের সময় সে আহত হয়েছিল।
একই সূত্র জানায়, খান ইউনিসের আল-আমাল এলাকার ৫ নম্বর সড়কের পাশের একটি জলাশয়ের কাছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক কিশোরী আহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে আনাদোলুর এক সংবাদদাতা জানান, ইসরায়েলি রাবার বোটগুলো রাফাহ উপকূলের দিকে এগিয়ে এসে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে বোটগুলো সেখান থেকে পিছু হটে। এ ছাড়া খান ইউনিসের উত্তর-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দুটি ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এ সময় শহরের পূর্বাঞ্চলে তীব্র গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। গাজা শহরের তুফাহ এলাকার পূর্বাঞ্চল এবং শহরটির পূর্বাঞ্চলেও ইসরায়েলি বাহিনী ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। দীর্ঘ এই যুদ্ধে গাজা উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।