সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পেয়েও ১ হাজার ৪৭১ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দেননি। এর মধ্যে নিয়োগপত্র পেয়েও নির্ধারিত সময়ে যোগ দেননি ৯১৮ জন। আর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি ৫৫৩ জন। এদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে ৮৩ জন প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নিয়োগ পাননি। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রসঙ্গত গত ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

পরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৩১ জন কাগজপত্র জমা দেন। অন্যরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। তাদের মধ্যে ৫৫২ জন কোনো কাগজপত্রই জমা দেননি। এছাড়া একজন প্রার্থী মারা গেছেন।

কাগজপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জন নিয়োগপত্র পান। তবে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও তাদের সবাই কাজে যোগ দেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন পদে যোগ দেন। ফলে ৯১৮ জন নিয়োগপত্র পেয়েও চাকরিতে যোগ দেননি।

সব মিলিয়ে কাগজপত্র জমা না দেওয়া ৫৫৩ জন এবং নিয়োগপত্র পেয়েও কাজে যোগ না দেওয়া ৯১৮ জন-মোট ১ হাজার ৪৭১ জন চাকরিতে যোগ দেননি। এদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থী পরবর্তী সময়ে নিয়োগপত্র পেলেও ৮৩ জন শেষ পর্যন্ত নিয়োগ পাননি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম বলেন, ‘অনেক প্রার্থী কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় শুরুতেই বোঝা গিয়েছিল যে তারা চাকরিতে আগ্রহী নন। আবার কেউ নিয়োগপত্র পেয়েও যোগ দেননি। তাদের অনেকে অন্য কোথাও চাকরি পেয়ে থাকতে পারেন।’

অধিদপ্তর সূত্র বলছে, বিপুলসংখ্যক প্রার্থী যোগ না দেওয়ায় নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময় ও অর্থ ব্যয় হলেও পদগুলো খালি থাকছে। এতে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট আরও বাড়তে পারে। এ কারণে দ্রুত নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।