ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা পরিষদের সামনের হাইরোড-সংলগ্ন ড্রেনের ঢাকনা ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে পথচারীদের চলাচলে তৈরি হয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি। যেকোনো সময় অসতর্কতাবশত কেউ ড্রেনের গর্তে পড়ে গুরুতর আহত হতে পারেন। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও চলাচলে অসুবিধা রয়েছে এমন মানুষের জন্য এটি বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ছবিতে দেখা যায়, সড়কসংলগ্ন ফুটপাতের পাশে ড্রেনের একটি অংশ খোলা অবস্থায় রয়েছে। ড্রেনের ওপরের ঢাকনা ভেঙে যাওয়ায় সেখানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তটির ওপর কিছু লোহার রড থাকলেও তা পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। অসতর্কতাবশত পা পিছলে গেলে কিংবা অন্ধকারে গর্তটি চোখে না পড়লে ঘটতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।
উপজেলা পরিষদের সামনেই যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে অন্য এলাকার পরিস্থিতি কেমন?
উপজেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনের সামনের সড়কসংলগ্ন ড্রেনের এমন অবস্থা জনসাধারণের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যে এলাকায় প্রতিদিন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সেবাপ্রত্যাশীর যাতায়াত রয়েছে, সেখানে ড্রেনের ভাঙা ঢাকনা দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকলে তা জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে।
এ অবস্থায় ভৈরব পৌর এলাকার অন্যান্য সড়ক, বাজার, জনবহুল স্থান ও আবাসিক এলাকার ড্রেনগুলোর নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে পুরো এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পেতে বিভিন্ন স্থানের ড্রেন সরেজমিনে পরিদর্শন করা প্রয়োজন।
দুর্ঘটনার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি
একটি ভাঙা ড্রেনের ঢাকনা কখনোই ছোটখাটো সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এমন একটি অবহেলিত স্থান থেকে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। কারও হাত-পা ভেঙে যাওয়া, মাথায় আঘাত লাগা কিংবা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তাই দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি নিরাপদ করা জরুরি। প্রথম পর্যায়ে গর্তটির চারপাশে সতর্কতামূলক ব্যারিকেড বা দৃশ্যমান চিহ্ন স্থাপন এবং দ্রুত টেকসই ঢাকনা বসানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
ভৈরব উপজেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হচ্ছে।
একই সঙ্গে ভৈরব পৌর এলাকার সব ড্রেনের ঢাকনা, নালা-নর্দমা ও পথচারীদের চলাচলের স্থান নিয়মিত পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। যেখানে ঢাকনা ভাঙা, সরে গেছে কিংবা খোলা অবস্থায় রয়েছে, সেখানে দ্রুত মেরামত ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।
জনগণের প্রত্যাশা একটাই—দুর্ঘটনার অপেক্ষা নয়, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এগিয়ে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা ভৈরববাসীর।