মোঃ হাসান আলী
জেলা প্রতিনিধি (গাইবান্ধা)

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের দেশব্যাপী বাস্তবায়নাধীন ‘ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, গাইবান্ধা ইউনিটের উদ্যোগে গতকাল সমবার (১২অক্টোবর) গাইবান্ধা পুলিশ লাইনস উচ্চ বিদ্যালয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী পক্ষ ও বিপক্ষ দুটি দল তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিতর্ক প্রতিযোগিতাটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে। প্রতিযোগিতার বিষয় নির্ধারণ ছিলো ‘একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সামসুল আলম দুলাল স্যারের সভাপতিত্বে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মডারেটর এর দায়িত্ব পালন করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সহ: শিক্ষক সাধন চন্দ্র বর্মন এবং বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন অত্র প্রতিষ্টানের সহকারি প্রধান শিক্ষক জান্নাতী বেগম ও গাইবান্ধা সরকারি গণগ্রন্থাগার এর সহ: লাইব্রেরিয়ান জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। পুরো অনুষ্ঠানটির কারিগরি সহযোগিতা করেন মোঃ জিবরুল ইসলাম জীবন, সহঃ শিক্ষক, গাইবান্ধা পুলিশ লাইনস স্কুল।

অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূণ বিতর্ক এই আয়োজনে পক্ষ ও বিপক্ষ দলের তথ্য নির্ভর বক্তব্য, বিশ্লেষণ, যুক্তিখন্ডন, নির্দিষ্ট সময় ও ভাষার শুদ্ধাচার এবং বাচনভঙ্গির উপর বিচারকগন তাদের রায় প্রদানের মাধ্যমে বিপক্ষ দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন এবং বিতর্কে শ্রেষ্ঠ বক্তাও নির্বাচিত হয় বিপক্ষ দলনেতা। বিজয়ী দল ও শ্রেষ্ঠ বক্তাকে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গাইবান্ধা ইউনিট এর পক্ষ থেকে বই পুরষ্কার দেওয়া হয়।

বিতর্ক শেষে সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ লাইনস স্কুল এর প্রধান শিক্ষক বলেন: ‘একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলো(বিভিন্ন খেলাধুলা, চিত্রাঙ্কন, নাচ, গান, আবৃত্তি, বিতর্ক,বই পড়া ইত্যাদি) শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননশীলতাকে বিকশিত করে তাই একাডেমি শিক্ষার পরিপুরক-ই হলো সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলো’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিচারকগণ তাঁদের বক্তব্যে বলেন: সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলো শিক্ষার্থী তথা যুব সমাজকে মাদক ও প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে মুক্ত রাখে। বক্তারা এও বলেন যে, সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকা ব্যক্তির দ্বারা নৈতিক অবক্ষয় ও মানবতাহীন কাজ হয়না বললেই চলে(দু’একটা ব্যতিক্রম ছাড়া)। তাঁরা শিক্ষার্থীদেরকে বই পড়াসহ সকল সহশিক্ষা কার্যক্রমে বেশী-বেশী যুক্ত হওয়ার উদাত্ত আহবান জানান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গাইবান্ধা ইউনিটের লাইব্রেরি ইনচার্জ জনাব মোঃ হাসান আলী। অনুষ্ঠানে ‘ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গাইবান্ধা ইউনিটকে কীভাবে আরও গতিশীল, কার্যকর ও প্রাণবন্ত করা যায়’—এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সামসুল আলম দুলাল ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কার্যক্রম, উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি দেশের মানুষের দোরগোড়ায় বই পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং যেসব এলাকায় বই সহজলভ্য নয়, সেসব এলাকার পাঠকদের কাছে বিভিন্ন ধরনের বই পৌঁছে দিয়ে জ্ঞানচর্চার সুযোগ সৃষ্টি করছে এই উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির এই অনন্য উদ্যোগকে সারা দেশে বিস্তৃত করেছেন। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা, নেতৃত্ব ও নিরলস প্রচেষ্টায় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি জ্ঞানচর্চা, মননশীলতা ও আলোকিত মানুষ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে যা সহশিক্ষা কার্যক্রমেরই অংশ বিশেষ।
পাঠকদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা, নিয়মিত পাঠক তৈরি করা এবং বিভিন্ন পাঠভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ইউনিটের কার্যক্রম তথা সহশিক্ষা ব্যবস্থা আরও প্রাণবন্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সবশেষে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য আইজিপি স্যার ও পুলিশ সুপার, গাইবান্ধা স্যারের পক্ষ থেকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রকে ধন্যবাদ জানান এবং উপস্থিত সবাইকে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সদস্য হয়ে নিয়মিত বই পড়ার পাশাপাশি অন্যদেরও বই পড়তে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। তিনি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গাইবান্ধা ইউনিটের সার্বিক সাফল্য ও অগ্রগতি কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে ইউনিটের কার্যক্রম আরো এগিয়ে নিতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।