এস এম আবদুল বারেক চট্রগ্রাম প্রতিনিধি:

১২ অক্টোবর ২০২৬ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৪ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে মাহফুজ রহমান নামে এক মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের কক্ষ, কাচের জানালা ও একটি ইসিজি মেশিন ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের দুর্ব্যবহারের পাশাপাশি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া বক্তব্য অনুযায়ী, রোগীকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্বজনদের অবহিত করেন এবং দ্রুত আইসিইউর ব্যবস্থা নিতে বলেন। স্বজনেরা আইসিইউর ব্যবস্থা করার সময় রোগীর মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালসংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে রোগীর স্বজনদের একাংশ ইসিজি করতে দেরি হওয়ার অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে উত্তেজনার একপর্যায়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানান।

হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের বক্তব্য, জরুরি চিকিৎসাসেবায় ব্যবহৃত ইসিজি মেশিনটি ভেঙে ফেলায় অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, ঘটনার সময় এক ওয়ার্ডবয়কে মারধর করা হয়, নার্সদের কক্ষে ঢুকে হট্টগোল করা হয় এবং চিকিৎসকদের কক্ষের আসবাবপত্র ও কাচ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। এক নারী চিকিৎসাকর্মী জানান, তিনি গর্ভবতী ও যমজ সন্তানের মা হতে চলেছেন; হামলার পরিস্থিতিতে সহকর্মীরা তাঁকে নিরাপদে সরে যেতে বলেন।

কয়েকজন রোগীর স্বজন বলেন, চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীর সংকটাপন্ন অবস্থার কথা আগেই জানিয়েছিলেন। তাঁদের মতে, সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়; এতে অন্য রোগীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

একজন চিকিৎসাকর্মীর ভাষ্য, হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর চাপ অনেক বেশি। এ অবস্থায় রোগীর স্বজনদের ধৈর্য ও সহযোগিতা ছাড়া চিকিৎসাসেবা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি জানান, ভাঙচুরের সময় চিকিৎসকদের কক্ষের কাছাকাছি একটি ভারী বস্তু ছোড়া হয়; সেটি চিকিৎসক বা কর্মীদের গায়ে লাগলে গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

একজন সাক্ষাৎকারদাতা জানান, ঘটনার পর কয়েকজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে কি না, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত এবং পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কী—তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

যুগ যুগান্তর প্রতিবেদকের নোট: অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।