মনিরামপুর(যশোর)

যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনর মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির ছেলেকে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ তুলে বুধবার ২ নেতা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নিবার্হী অফিসারের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তাঁরা সার ডিলার নিয়োগ পুনঃ যাচাই বাছাইয়ের দাবি করেন। সারের ডিলার তালিকা প্রকাশের পর তৃণমূল বিএনপিতে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ১৪ নং দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম অভিযোগে দাবি করেন বিসিআইসির সারের ডিলার জান্নাতুল ফেরদৌস এন্টারপ্রাইজ প্রোঃ রওশনারা খাতুন সম্প্রতি ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে ইউনিয়ন সুপার ভাইজার হিসেবে সরকারি সুবিধা নিয়েছে। এ ছাড়াও তার স্বামী ৯ নং ওয়ার্ডের পাড়ালা গ্রামের একজন চিন্হিত মাদক ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন। ডিবির এক অভিযানে নগদ ৪৩ হাজার টাকা ও ইয়াবা সহ আটক হয়। সে মনিরামপুর থানা মাদক দ্রব্য আইনে মামলা ৪(৩)২৬ আসামি। এছাড়াও জামালপুরের সদর থানা সি আর ১৬(১)২৩ প্রতারণা মামলার ২ বছর সাজা প্রাপ্ত আসামি।

শ্যামকুড় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সাবেক মেম্বার ফজলুর রহমান অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তার ইউনিয়নে সারের ডিলার হিসেবে চুড়ান্ত হয়েছে মেসার্স জামান ট্রেডার্স প্রোঃ সালাউদ্দিন। সালাউদ্দিনের পিতা আবুল কাশেম ২ নং ওয়ার্ড নাগরঘোপ হাসাডাঙ্গা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এমন বিতর্কিতদের সারের ডিলার দেওয়া তিনি সহ তৃণমূল বিএনপি মানতে পারছে না।

এ ছাড়াও রোহিতা ও ঝাঁপা ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক থামছে না। অভিযোগকারী সহ মনিরামপুর সার ডিলার নিয়োগ নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে পুনঃ নিয়োগ দিতে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি কামনা করেছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদল নেতা কামরুল ইসলাম ও চিনেটোলা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান দলের স্থানীয় নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন বিগত দিনে যাদের দ্বারা মামলা হামলার শিকার হয়েছি নেতারা অর্থ বানিজ্যে তাদের সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে এটা ভালো লক্ষণ না। অব্যাহত ভাবে চলতে থাকলে দলের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে যাবে।

রওশনারা ও সালাউদ্দিনের দাবি নিয়োগে কনো অনিয়ম বা দূর্নীতি হয়নি। নিয়োম মেনেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সার বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি সম্রাট হোসেন যাচাই-বাছাই শেষে নিয়োগ দিয়েছে।