মোহাম্মদ মোরসালিম সরদার (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

চিরিরবন্দরে দুই শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ ঘাতক স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুরিকে আটক করে লাশ উদ্ধার করে। গতকাল সোমবার দুপরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য দিমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। শিশু দুইটিকে হত্যা করার আলামত মিললেও গৃহবধূ নিজে আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, এ রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় গৃহবধূর পিতা খাইরুল ইসলাম গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় বাদি হয়ে চিরিরবন্দর থানায় ৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ মামলাটি রুজু করে।

এ ঘটনাটি গত রোববার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জুগির ডাঙ্গা মাঠের পূর্বপাশে মোস্তফাপুর বালুপাড়ায় ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মোস্তফাপুর বালুপাড়ার মাহতাব উদ্দিনের ছেলে শাকিল হোসেনের (২৬) সাথে পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ি এলাকার খাইরুল ইসলামের মেয়ে স্বর্ণা বেগমের (২০) বিয়ে হয়। দম্পতির এক ছেলে সাফায়াত হোসেন (২) ও এক মেয়ে রাইফা জুরাইনা (৯ মাস) নামে দুটি শিশু সন্তানের লাশ ঘরের বিছানায় পড়ে ছিল ও স্ত্রীর লাশ ঘরের মেঝেতে শোয়ানো ছিল। স্বামী মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকা, মাদকসেবন করা নিয়ে মাঝে মধ্যে স্বামী স্ত্রীর বাকবিতণ্ডাসহ টুকটাক ঝগড়া বিবাদ থাকত। সংসারের অভাব অনটনের কারণে স্বামী শাকিল অটোচালাত। অনেক রাতে বাড়িতে ফিরত।

গৃহবধূর মা আনজু আরা বলেন, তার জামাই শাকিল তাদের ফোনে জানায়, তাদের মেয়ে সন্তানগুলোকে মেরে নিজে আত্মহত্যা করেছে। সংবাদ পেয়ে দ্রুত জামাইয়ের বাড়িতে আসি। তবে ৩ মাস পূর্বে মেয়ে জানিয়েছিল, জামাই নেশা করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর আমিন শাহ বলেন, তাদের পারিবারিক কলহ ছিলনা। কেউ কোনোদিন অভিযোগ দেয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, বোঝা যাচ্ছেনা। প্রশাসন তদন্ত করছে। ঘরের দেয়ালে কিছু লেখা ছিল, লেখাগুলো কে লিখেছে, জানা যাচ্ছে না। তবে লেখা ছিল আজ থেকে এ গল্প শেষ। আমি অভাগি মা। আমার সন্তানদের নিজে মারছি। সন্তানদের পুলিশের কাছে দিয়েন না। লাশ পলাশবাড়িতে মাটি দেন। শাকিল যেন না ছোয়, বাবা মা সরি।

জেলা পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা পিপিএম বলেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য বা মোটিভ উদ্ধার করতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ শুরু করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এটি একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা। আমরা আলামত সংগ্রহ করেছি, সুরতহাল করেছি। ঘাতকদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছি। লাশগুলোর ময়নাতদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা যাবে।

থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুন নবী বলেন, ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিআইডির ক্রাইম বিশেষজ্ঞ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এরপর লাশগুলো উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়। এ ঘটনায় গৃহবধূর পিতা গতকাল সোমবার দুপুরে বাদি হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করলে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। রাতে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্বামী শাকিল নিজেই সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে অধিকতর তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।