মোস্তফা কামাল মজুমদার
শ্রমজীবী পরিবারের শিশুদের বিনামূল্যে সুন্নাতে খাৎনা ও চিকিৎসাসেবা দিয়েছে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা জেলা। গার্মেন্টস শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার স্বল্প আয়ের মানুষের সন্তানদের জন্য দিনব্যাপী এ সেবামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আজ সাভারের আশুলিয়ায় ঢাকা কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি স্কুল মাঠে এ চ্যারিটি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক শিশু অংশ নেয়। দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের তত্ত্বাবধানে শিশুদের বিনামূল্যে সুন্নাতে খাৎনা সম্পন্ন করা হয়। পাশাপাশি চিকিৎসা নেওয়া শিশুদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, গার্মেন্টস শ্রমিক ও স্বল্প আয়ের কর্মজীবী মানুষের অনেকের পক্ষেই পরিবারের চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এসব পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে খাৎনা সম্পন্ন করা এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়াই ছিল কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকি করেন এবং উপকারভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন।
সমাপনী বক্তব্যে ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকেরা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাঁদের শ্রম ও অবদানের ওপর দেশের বিভিন্ন খাতের কার্যক্রম পরিচালিত হলেও অনেক সময় শ্রমজীবী মানুষ ও তাঁদের পরিবার প্রাথমিক সেবা-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এ অবস্থায় শ্রমিক পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের প্রয়োজনের সময় সহায়তা দেওয়া সামাজিক দায়িত্বের অংশ।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শ্রমজীবী মানুষ ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণে সেবামূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়ে। শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শ্রমজীবী মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে এবং সামাজিক সেবামূলক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিশুদের অভিভাবকেরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁরা বলেন, বিনামূল্যে সুন্নাতে খাৎনা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় তাঁদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমেছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা থাকায় তাঁরা উপকৃত হয়েছেন বলেও জানান। এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁরা।
শ্রমজীবী ও স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে যেসব পরিবার প্রয়োজনীয় সেবা নিতে সমস্যায় পড়ে, তাদের জন্য বিনামূল্যের চিকিৎসা কার্যক্রম তাৎপর্যপূর্ণ।
৩১ অক্টোবর জামায়াতের লংমার্চ: বায়তুল মোকাররম থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত রুট প্ল্যান প্রকাশ
আয়োজকদের মতে, শ্রমজীবী মানুষের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। আশুলিয়ার এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শ্রমিক পরিবারের শিশুদের বিনামূল্যে সুন্নাতে খাৎনা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে।