মৌলভীবাজারপ্রতিনিধি
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের আনিকেলি বড় গ্রামে জায়গা পুর্বশত্রুতার জের ধরে নিয়ে কুয়েত প্রবাসী সৈয়দ আব্দুল মালিকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
এসময় প্রবাসীর বোন তামান্না আক্তার সহ ৩ জন আহত মারাত্নক ভাবে আহত হয়েছেন। এব্যাপরে মৌলভীবাজার মডেল থানায় তামান্না আক্তার বাদী হয়ে একটি মামলা করেছের।
নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবারের সদস্যরা নিজ বাড়িতে স্বাভাবিক ভাবে বসবাস করতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে পরিবারের স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাপন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত (১৬ অক্টোবর) শুক্রবার মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২ নম্বর গিয়াসনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আনিকেলি বড় গ্রামে প্রবাসী সৈয়দ আব্দুল মালিকের বাড়িতে মশাহিদ আলীর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ দল হামলা চালায়। সময় বাড়ির প্রধান ফটক, সীমানাপ্রাচীর, টিনের চালা ও পানির ট্যাংকিসহ বসত ঘরের ভিতর বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় গত ১৯ অক্টোবর মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় তামান্না আক্তার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ২২।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর মশাইদ আলী গংদের উপর করা একটি জিআর ৩০৩/২৬ ( সদর) মামলায় জেল হাজত কেটে বেড়িয়ে এই হামলা করে।
এই মামলা দায়েরের পর পরিবারের সদস্যদেরে আবারও প্রান নাশের হুমকি দিচ্ছে মশাইদ আলী গংরা। প্রাণহানির আশঙ্কায় তাঁরা বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী তামান্না আক্তার।
পরিবারটির দাবি, বাড়িতে কোন পুরুষ সদস্য না থাকায় তাঁরা আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের বাড়ির বাইরে থাকতে হওয়ায় তাদের নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে কুয়েত প্রবাসী সৈয়দ আব্দুল মালিকের সঙ্গে মুঠোফোনে বলেন, “আমরা তিন ভাই। আমি ও আমার আরেক ভাই কুয়েত প্রবাসী, আর ছোট ভাই সৌদি আরবে থাকেন। বাড়িতে কোনো পুরুষ লোক নেই। এ কারণে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি। হামলাকারীরা আমার বোন, বৃদ্ধ মা ও ভাগনেকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে। একজন প্রবাসী হিসেবে প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক।
প্রবাসীর বোন আহত তামান্না আক্তার বলেন, পুর্ব শত্রুতার জের ধরে ইতিপুর্বেও হামলা করেছে। ঘটনার দিন পরিকল্পিত ভাবে হামলা করে ভাংচুর, লুটপাট ও হত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে আমরা মশাইদ আলী গংদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি।
১২নং গিয়াসনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রতিভা রানী দেব বলেন, ইদানিং তাদের মারামারির বিষয় কোন পক্ষ আমাকে জানায়নি। আমি লোক মুখে শুনেছি। গততে তাদের ঝামেলা নিয়ে পুলিশ এসেছিিল। সেসময় আমাদের ইউনিয়নে একটি সালিশ হওয়ার কথা ছিল। পরে আর হয়নি। মামলা পর্যায়ে চলে যায়।
মৌলভীবাজার মডেল থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো: ফরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটা দিনের আলোর মতো পরিস্কার। ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে। মামলা হয়েছে। আমি আসামী ধরার জন্য সোর্স মাধ্যমে খবর পেয়ে গতকাল সন্ধ্যার পরও অভিযান করেছি। পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। আমি স্থানীয় মেম্বারকে সহযোগীতা করার জন্য অনুরোধ করে এসেছি।