বরিশালপ্রতিনিধি

বাবুগঞ্জে ভুয়া চিকিৎসককে ৫০ হাজার ও প্যাথলজিস্টবিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে অভিযান শেষে জরিমানা কর হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট আসমা উল হুসনা।

জরিমানা দেয়া ভুয়া চিকিৎসক হলেন উপজেলার মাধবপাশা বাজারের মেসার্স আন্নি ফার্মেসীর মালিক তসলিমা আক্তার আন্নি ও একই এলাকায় অবস্থিত পল্লবী ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবের ম্যানেজার সাব্বির সরদার।

এর আগে সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত সময় এ অভিযান করা হয় বলে জানিয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)।

তারা জানান, তাদের বরিশাল কার্যালয়ের একটি দল ছদ্মবেশে রোগী সেজে মাধবপাশা বাজারে তাসলিমা আক্তার আন্নির চেম্বারে যান এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। ওই চিকিৎসক এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি ছাড়াই তিনি দীর্ঘদিন ধরে মা ও শিশুবিষয়ক বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাসেবা দেন। এ ছাড়া তাঁর নিজস্ব ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও পাওয়া যায়।

এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন অভিযানে সাথে থাকা ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী হাকিম বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমাউল হুসনা। একই সাথে ভবিষ্যতে চিকিৎসা না দেয়ার মুচলেকা রাখা হয়েছে।

পরে আদালত একই এলাকায় অবস্থিত পল্লবী ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান করে। সেখানে প্রয়োজনীয় সনদ ও প্যাথলজিস্ট ছাড়াই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেয়া হয়। পরীক্ষাগারের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনায় যথাযথ মান ছিলো না। তাই প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. সাব্বির সরদারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে উপজেলা আবাসিক চিকিৎসক ডা. তুর্য্য অধিকারী এবং বিমানবন্দর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনও আসমা উল হুসনা বলেন, “বাবুগঞ্জ একটি ছোট উপজেলা হলেও এখানে কিছু অসাধু ব্যক্তি চিকিৎসাসেবার নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভুয়া চিকিৎসক, অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চিকিৎসাসেবার নামে প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”