আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগোলেও এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
শুক্রবার বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা খুব কাছাকাছি আছি। তবে এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাইনি।’ প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার কথাও রয়েছে।
এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দুই দেশ একটি চুক্তির খসড়ায় নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে সেটি এখনো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম দাবি করেছে, এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
জেডি ভ্যান্স বলেন, আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করুক এবং বিদ্যমান মজুত সরিয়ে ফেলুক। কারণ এ ধরনের ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, একটি সমঝোতা খুব কাছাকাছি। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপও বাড়ছে। উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দল এবং কিছু রিপাবলিকান নেতাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে আবারও অবাধ জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এ জন্য ইরানকে ওই জলপথ থেকে মাইন অপসারণে ৩০ দিন সময় দেওয়া হতে পারে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে, যাতে দেশটি আবার তেল রপ্তানি শুরু করতে পারে।
তবে হোয়াইট হাউস এখনো কোনো চুক্তির বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টই নেবেন।’
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইরানি সংবাদমাধ্যম একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও জানিয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এসব দাবি অস্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য, কোনো মার্কিন বিমান ভূপাতিত হয়নি এবং সব আকাশযান নিরাপদে রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি