ঝিনুক ইসলাম,,,

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পৈতৃক সম্পত্তি ও বৈদ্যুতিক সেচমোটর বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে নাসরিন আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূকে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর স্বামী শহিদুল ইসলামকেও মারধর করা হয়। গুরুতর আহত নাসরিনকে প্রথমে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাংড়া ইউনিয়নের কাগমারী ইছাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নাসরিন ওই গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী।

এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম কালিহাতী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তাঁর ভাই শাকের আহমেদ (৪০), সাব্বির আহম্মেদ (২০), মর্জিনা খাতুন (৩২) ও তোবাসহ (২০) কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পৈতৃক সম্পত্তি ও বৈদ্যুতিক সেচমোটর বণ্টন নিয়ে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর ভাই ও পরিবারের অন্য সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা শহিদুল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁর স্ত্রী নাসরিন আক্তারকে টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে বাইরে বের করে মারধর, হত্যার চেষ্টা ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে নাসরিনের গলায় থাকা স্বর্ণের চেন ও স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে শহিদুল ইসলামকেও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত নাসরিনকে উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, এর আগেও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জামিনে মুক্ত হয়ে তাঁদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ছেড়ে এলেঙ্গায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন তাঁরা।

গত ৩ নভেম্বর সকালে এলেঙ্গার ভাড়া বাসা থেকে নিজেদের বাড়ি কাগমারী ইছাপুরে যান শহিদুল ও নাসরিন। সেদিন বিকেলেই তাঁদের ওপর আবার হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাকের আহমেদকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।