অর্থ-বানিজ্য

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

(বিবিএস) পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে তথ্য বা ডেটা। নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া কোনো সরকারের পক্ষে সঠিক নীতি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এ কারণে পরিসংখ্যান ব্যুরোর স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের দিকে সরকার এগোচ্ছে।’

রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কার্যালয়ে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটা কথা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, বিবিএসকে আমরা পূর্ণ স্বাধীনতা দেব। তাদের এই কাজে পৌঁছানোর জন্য যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, ‘ডেটা হচ্ছে একটা সরকারের ব্যালান্সশিটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে একটা সরকারের তথ্য। যে সরকারের হাতে ডেটা থাকবে না, যে কোম্পানির হাতে ডেটা থাকবে না, যে ব্যক্তির হাতে ডেটা থাকবে না, গবেষকের হাতে ডেটা থাকবে না, তার সামনে এগোনোর কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘তথ্যের ওপর আস্থা না থাকলে সেই তথ্যের ভিত্তিতে কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। যে তথ্য পরিমাপযোগ্য নয় এবং যার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, সেই তথ্যের ওপর কারও আস্থা থাকার কারণ নেই। কোনো সরকার তথ্য নিয়ে কারসাজি করলে সেটি নিজের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো সরকার তথ্য নিয়ে যদি কোনো রকমের ম্যানিপুলেশনে যায়, এটা হচ্ছে নিজের সঙ্গে প্রতারণা করা। অর্থাৎ আমি নিজেকে নিজে বোকা বানাচ্ছি। আমার যে কর্মসূচি, এই কর্মসূচি যদি সফল করতে হয়, তাহলে প্রথম যে বিষয়টি আমার হাতে থাকতে হবে, সেটা হচ্ছে সঠিক তথ্য।’

তিনি আরও বলেন, পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে নির্ভরযোগ্য, স্বচ্ছ, পরিমাপযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে। এ জন্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর কাজকে কীভাবে ক্ষমতায়ন করা যায়, তা নিয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেওয়া হচ্ছে।’

আমীর খসরু বলেন, ‘পরিসংখ্যানের ওপর যদি আস্থা না থাকে, তাহলে আর কারও আস্থা থাকার কোনো কারণ নেই। যে তথ্য পরিমাপযোগ্য হবে না, যেটার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থাকবে, সেই তথ্যের ওপর কোনো কাজ করা সম্ভব হবে না।’

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তথ্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অতীতের ভুল ও অসংগতিগুলো চিহ্নিত না করে সেগুলোর সমাধান করা সম্ভব নয়। এ কারণে পরিসংখ্যান ব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এটি কোনো অতীত সরকারকে দোষারোপ করার জন্য নয়; বরং সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধানের পথ বের করার জন্য।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই হবে না, সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে দেশে অনেক নীতিমালা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়নের পর্যায়ে গিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এবার ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মাধ্যমে তথ্যের সমন্বয় ও ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ওয়ালেট, ওয়ান কার্ডের দিকে যাচ্ছি। তথ্য যদি না থাকে, তাহলে স্বচ্ছতা আনা সম্ভব হবে না। নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই আমাদের সামনের দিকে এগোতে হবে।’

তথ্য উন্মুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, ‘পরিসংখ্যান শুধু সরকারের নিজস্ব সম্পদ নয়, এর মালিক জনগণও। এ কারণে গবেষণা ও জনস্বার্থে তথ্য ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে হবে। বিবিএসে গবেষণার জন্য যে সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে, সেখানকার তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যত বেশি তথ্য ওপেন করব, তত বেশি ফিডব্যাক পাব, তত বেশি রিঅ্যাকশন পাব। আমরা কোথায় ভুল করছি, সেটি আমাদের কাছে ফিরে আসবে। আর ভুল সংশোধন করতে হলে এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হবে।’

স্বচ্ছতার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের কাছে সরকারের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠা উচিত নয়। জনগণ বিশ্বাস করে একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। সেই সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস বজায় রাখতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।’