নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালী সদর উপজেলায় দুই পক্ষের ঝগড়া থামাতে গিয়ে হামলায় এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩০ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লচি সর্দার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. কামাল উদ্দিন (৫০) ওই বাড়ির মৃত মো. সোলাইমানের ছেলে। তিনি পেশায় গাছ ব্যবসায়ী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লচি সর্দার বাড়ির কামাল উদ্দিনের ছেলে তারেক ও ভাতিজা ফরহাদ পাশের বাড়ির রনি ও শামুর সঙ্গে চলাফেরা করতেন। ঈদুল আজহার ছুটিতে তারা লচি সর্দার বাড়ির পেছনে একটি জুয়ার আসর বসান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পাশের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে ফরহাদের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।

এরই জেরে শনিবার (৩০ মে) রাতে লচি সর্দার বাড়িতে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে পুনরায় ঝগড়া বাঁধে। এ সময় ঝগড়া থামাতে গেলে স্থানীয় মিনু আলী হাজী বাড়ির ইমাম উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন কামাল উদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। হামলার পর তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ভাই ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. তোফায়েল অভিযোগ করে বলেন, ‘পাশের বাড়ির ইমাম উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন আমাদের বাড়িতে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। আমার ভাই কামাল তাদের বাধা দিতে ও ঝগড়া থামাতে গেলে তার ওপর হামলা করা হয়।’

সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শ্রীরাম চন্দ্র ভট্টাচার্য জানান, জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে নিহতের ভাতিজা ফরহাদকে প্রথমে মারধর করা হয়। পরে চাচা কামাল উদ্দিন ঝগড়া থামাতে গেলে তিনি অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।