বান্দরবানপ্রতিনিধি,
নাইক্ষ্যংছড়ি-রামু ও গর্জনিয়া সড়কে দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী গর্জনিয়া থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি রুটে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৪০ টাকা এবং নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে গর্জনিয়া পর্যন্ত ৩০ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে গর্জনিয়া থেকে ৭০ টাকা এবং নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নিচ্ছেন। এছাড়া সন্ধ্যার পর বিভিন্ন অজুহাতে ভাড়া আরও বৃদ্ধি করে যাত্রীপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে ভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর তদারকির অভাবে চালকরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন। ফলে যাত্রী হয়রানির পাশাপাশি সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এনামুল হাসানকে বিষয়টি অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, রামু উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমানের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, গর্জনিয়া-নাইক্ষ্যংছড়ি-রামু সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত এবং কোটি টাকার লেনদেন হয়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

তাদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম দ্রুত বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং সরকারের ভাবমূর্তিও আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে সিএনজি লাইনম্যান তুসার ও নুর মোহাম্মদ সাংবাদিকদের জানান, পরিবহন সমিতির নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তারা ৭০ টাকা ভাড়া আদায় করছেন।

গর্জনিয়া লাইনের শ্রমিক নেতা নুরুল হুদা বলেন, “নির্ধারিত তালিকার বাইরে কেউ অতিরিক্ত টাকা আদায় করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা ফরিদ আহমদ বলেন, “গর্জনিয়া থেকে প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার সড়কে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা হওয়ার কথা। সেখানে যাত্রীদের কাছ থেকে ৭০ টাকা এবং সন্ধ্যার পর ১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।”
এ অবস্থায় কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।