নেত্রকোনা প্রতিনিধি
বিভিন্ন নৌপথে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন নৌপথে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিশেষ করে খালিয়াজুরী সদর-বোয়ালি বাজার এবং খালিয়াজুরী-উচিৎপুর রুটে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। এতে তারা চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।
বুধবার (৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী হৃদয় দত্ত রায়। তিনি জানান, খালিয়াজুরী সদর থেকে বোয়ালি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার নৌপথে যাত্রীপ্রতি ১৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা ভাড়া নৈরাজ্যের একটি উদাহরণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ খালিয়াজুরী-উচিৎপুর রুটে জনপ্রতি ২৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। অথচ বিআইডব্লিউটিএর ২০২২ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৮৫ পয়সা। সে হিসেবে এ রুটে ভাড়া হওয়ার কথা প্রায় ৫৭ টাকা।
জানা গেছে, খালিয়াজুরী থেকে উচিৎপুরগামী যাত্রীদের কাছ থেকে দুই ধাপে ভাড়া নেওয়া হয়- খালিয়াজুরী থেকে বোয়ালি ১৫০ টাকা এবং বোয়ালি থেকে উচিৎপুর ১০০ টাকা।
স্থানীয় এনজিও কর্মকর্তা মো. শাহআলম বলেন, ‘আমার ১০ বছর বয়সী মেয়ে খালিয়াজুরী থেকে উচিৎপুরে যেতে ২৫০ টাকা ভাড়া দিয়েছে।’
ট্রলার মালিক নিরধ দাস বলেন, ‘সব ট্রলার মালিক মিলে আলোচনা করে বর্তমান ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ভাড়া কিছুটা বেশি হয়েছে, সেটি আমরা অস্বীকার করছি না। যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়া এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।’
আরেক ট্রলার মালিক শামছু মিয়া বলেন, ‘অনেক সময় ট্রলারে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যায় না, ফলে খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন ঘাটে টোল ও অন্যান্য খরচও আগের তুলনায় বেড়েছে। এসব কারণেই ভাড়া বাড়াতে হয়েছে, যদিও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’
তবে উচিৎপুর ট্রলার ঘাটের ইজারাদারদের দাবি, তারা নির্ধারিত হারে টোল আদায় করেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায় ট্রলার মালিকদের।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অলিদুজ্জামান বলেন, ‘নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে। অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।