ইকবাল বাহার, কানাইঘাট উপজেলা প্রতিনিধি :
দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে জৈন্তাপুর উপজেলার ৩ নং চারিকাটা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপ্রসাদ পাতন গ্রামের মানুষের। উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত এই জনপদে অবশেষে বহু প্রতীক্ষিত একটি নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাজুড়ে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজার হাজার মানুষের বসবাস থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে গ্রামটির প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল সিঙ্গাইর নদীর ওপর নির্মিত একটি ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর নির্ভরশীল। সরু এই সেতুর কারণে বড় ধরনের যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব ছিল। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি আরও তীব্র আকার ধারণ করত। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হতো। জরুরি রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং দৈনন্দিন যাতায়াতেও সৃষ্টি হতো নানা প্রতিবন্ধকতা। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রশস্ত ও আধুনিক সেতুর দাবিতে এলাকাবাসী বিভিন্ন মহলে আবেদন জানিয়ে আসলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
অবশেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। নির্মাণাধীন এই সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ মিটার এবং প্রস্থ সাড়ে ৪ মিটার। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই সেতুটি চালু হলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
এ বিষয়ে ৩ নং চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান করিম জানান, এলাকার মানুষের জন্য একটি সেতু নির্মাণের ইচ্ছা তার অনেক আগে থেকেই ছিল। কিন্তু জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, “অবশেষে স্থানীয় জনগণের আন্তরিক সহযোগিতার কারণে সেতু নির্মাণের পথ সুগম হয়েছে। এজন্য আমি ৫ নং বড়চতুল ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মালিগ্রাম গ্রামের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না।”
চেয়ারম্যান আরও বলেন, “বিশেষভাবে জনাব আবদুল্লাহ, জাকারিয়া ও শামসুজ্জামান জামালসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানাই। তারা নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে এসে কোনো ধরনের আর্থিক দাবি ছাড়াই জমি প্রদান করে এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে সফল করতে সহযোগিতা করেছেন। তাদের এই অবদান এলাকাবাসী দীর্ঘদিন স্মরণ রাখবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও ভোগান্তির অবসান ঘটবে। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।”
দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষার পর শুরু হওয়া এই সেতু নির্মাণ কাজকে এলাকাবাসী উন্নয়নের নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। দ্রুত ও মানসম্মতভাবে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে লক্ষ্মীপ্রসাদ পাতনসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।