মোঃ আবু জাফর মন্ডল :

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার একটি মন্দিরকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক ও উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা মনে করেন, বিষয়টি কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কারণ হওয়া উচিত নয় এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
সচেতন মহলের মতে, মন্দির পরিচালনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মন্দির পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রী হরিদাস চন্দ্র দাসের ভূমিকা নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে প্রয়োজনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত ও তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
তাদের দাবি, যদি তদন্তে কোনো ধরনের অসঙ্গতি, অনিয়ম বা দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনআস্থা বজায় রাখার স্বার্থে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরবর্তীতে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক পরিচালনা কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
সচেতন নাগরিকদের বক্তব্য, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের চেয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক শান্তি এবং আইনের শাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তারা বলেন, “বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের ঐতিহ্য হলো ধর্মীয় সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। তাই সম্প্রীতি রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
স্থানীয় বিভিন্ন মহলও আশা প্রকাশ করেছে যে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শনের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত রাখবে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথে এগিয়ে যাবে।