শাহ জামান সিরাজী

বিনীত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার হাজারো শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষানুরাগী ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে একটি প্রাণের দাবি আপনার সদয় বিবেচনার জন্য তুলে ধরছি।

উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে জাতীয়করণ করা হোক।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু ইট-পাথরের চার দেয়াল নয়; এটি একটি জনপদের স্বপ্ন, একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ এবং একটি জাতির উন্নয়নের ভিত্তি। উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজও তেমনই একটি প্রতিষ্ঠান, যা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সীমান্ত জনপদের অসংখ্য শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার আলোকবর্তিকা হয়ে আছে।

উখিয়া-টেকনাফের মানুষের প্রিয় নেতা, পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য জনাব শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ সালে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা ছিল—এই অঞ্চলের কোনো মেধাবী সন্তান যেন শুধু দারিদ্র্য বা দূরত্বের কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। সেই স্বপ্ন আজ হাজারো তরুণ-তরুণীর স্বপ্নের সঙ্গে মিশে গেছে।

বর্তমানে এই কলেজে রয়েছে—

৭টি বিষয়ে অনার্স শিক্ষা কার্যক্রম,

ডিগ্রি শাখা,

ইন্টারমিডিয়েট শাখা,

বিএম শাখা,

প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী,

এবং প্রায় ১০০ জন শিক্ষক-কর্মচারী।

প্রতিদিন এই প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় নতুন স্বপ্ন জন্ম নেয়। এখান থেকেই অনেক শিক্ষার্থী ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সমাজসেবক ও দেশের দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার স্বপ্ন বুনে।

অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, তুলনামূলকভাবে অনেক কম শিক্ষার্থী থাকা কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের সুযোগ পেয়েছে। অথচ দীর্ঘ ঐতিহ্য, বিস্তৃত শিক্ষা কার্যক্রম এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এখনো জাতীয়করণের বাইরে রয়ে গেছে। এতে এ অঞ্চলের মানুষ নিজেদের অবহেলিত ও বৈষম্যের শিকার বলে অনুভব করেন।

২০১৭ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আগমনের পর যখন পুরো উখিয়া-টেকনাফ মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল, তখন এই কলেজও দেশের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কলেজের মাঠ ও ভবন বিভিন্ন মানবিক কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান কেবল শিক্ষার কেন্দ্র নয়, প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে।

উখিয়া ও টেকনাফ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এই অঞ্চলের উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, দারিদ্র্য বিমোচন, বেকারত্ব হ্রাস এবং একটি দক্ষ ও শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তুলতে উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের জাতীয়করণ সময়ের দাবি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

হাজারো শিক্ষার্থীর চোখে আজ একটি স্বপ্ন জ্বলজ্বল করছে। অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তান এই কলেজকে আঁকড়ে ধরে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের স্বপ্ন ভেঙে যেতে দেবেন না। শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার, আর সেই অধিকারকে আরও শক্তিশালী করতে এই কলেজের জাতীয়করণ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে।

আমরা বিশ্বাস করি, আপনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও মানবিক বিবেচনায় উখিয়া-টেকাফের লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের এই প্রাণের দাবি বাস্তবে রূপ পাবে।

আমাদের আকুল আবেদন

উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে জাতীয়করণ করুন।

কারণ—

একটি কলেজের জাতীয়করণ মানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নয়;
এটি হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষা,
হাজারো পরিবারের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা,
একটি জনপদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা,
এবং একটি শিক্ষিত, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।

উখিয়া-টেকনাফের মানুষের প্রাণের দাবি—
“শিক্ষার আলো সবার জন্য,
উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের জাতীয়করণ এখনই প্রয়োজন।” :::