গাইবান্ধা প্রতিনিধি
পলাশবাড়ী উপজেলায় শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরে ৮০ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন রাম মূর্তি অপসারণের দাবিতে পলাশবাড়ী ইমাম ওলামা পরিষদের উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বাদ জুম্মা গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চারমাথা মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। পলাশবাড়ী ইমাম ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা ছাদেকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ইমাম ওলামা পরিষদ পলাশবাড়ীর সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামী পলাশবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাহ আলম ফয়েজি, জামায়াত নেতা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু তালেব মাস্টারসহ একাধিক ইসলামি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তরা বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে পলাশবাড়ীতে সাম্প্রদায়িক সম্পর্কের কোনো অবনতি হয়নি। কার উস্কানিতে বিশ্বের বৃহত্তর এই রাম মূর্তি নির্মাণ করা হলো আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বৃহত্তর রাম মূর্তি অপসারণ ও মূর্তি নির্মাণের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা না হলে কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে।
এদিকে রাম মূর্তি অপসারণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে পলাশবাড়ী উপজেলার তিনটি গুরুত্ব¡পূর্ণ স্থান যথাক্রমে পলাশবাড়ী চারমাথা মোড়, কোমড়পুর মোড় ও হাসবাড়ী এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। তিনটি স্থানে ৩ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ২ প্লাটুন বিজিবি, ১ প্লাটুন আমর্স ব্যাটালিয়ান ছাড়া ও র্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন র্যাবসহ কয়েকশ পুলিশ-ডিবি পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে পুরো উপজেলায় যেন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিলো।
পুলিশ সুপার বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা সার্বিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। তবে এখন কোনো আইনশৃঙ্খলা অবনতির মতো কোনো পরিস্থিতি উদ্ভব হবে না। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা পরামর্শ এলে সে মোতাবেক সমাধানের পথে এগিয়ে যাবো।
জেলা প্রশাসক বলেন, রাম মন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে সর্ব সাধারণের মাঝে যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে যাতে কোনো প্রকার অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে আমরা সার্বিক পর্যবেক্ষণ করছি। এ নিয়ে হিন্দু ও মুসলিম ধর্মীয় নেতা ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সাথে সম্প্রতি রক্ষা ও নিরাপদ গাইবান্ধা বিনির্মাণে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিশেষ সভা করা হয়েছে।বাংলাদেশ সংবাদ
গাইবান্ধা ৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবু বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বিশ্বে সর্বজন স্বীকৃত বাংলাদেশ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির বন্ধন রক্ষা আমাদের সকলের দায়িত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে গাইবান্ধা জেলায় সাম্প্রদায়িক বিনষ্ট কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্ট হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভবিষ্যতে এই রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে কোনো অপশক্তির উস্কানিতে এই সৌহার্দ্য সম্প্রতি বিনষ্ট না হয় সেই ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকার আহবান জানান।
বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মধ্যরামচন্দ্রপুরে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের নিজস্ব ভবনে সংবাদ সম্মেলন মন্দির কমিটির পক্ষে সাধারণ সম্পাদক বিপিন চন্দ্র বর্মন বলেন, আমরা রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে সমলোচনায় পড়তে চাইনা। আমরা কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে চাই না। ধর্ম আমরা পালন করবো এবং মুসলিম ধর্মালম্বীরাও পালন করবে, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানরাও পালন করবে। সবাই সবার ধর্মকে সম্মান করতে হবে। যখন রাম চন্দ্রকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে তাই রাম মন্দিরের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে এবং বাকি অন্যান্য কাজ চলমান থাকবে।
মন্দির কমিটির উপদেষ্টা শ্যামল কুমার মহন্ত বলেন, প্রশাসনিক চাপ, ওপড় মহল বা কোনো রাজনৈতিক চাপে আমরা রাম মন্দিরর উন্নয়ন কাজ স্থগিত করছি না। শুধু মাত্র সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং মুসলমানদের সাথে ভাই ভাই সর্ম্পক প্রমাণের জন্যই আজ মন্দিরের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।