গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডল:
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বাহাদুরাবাদ ঘাট থেকে বালাসীঘাট পর্যন্ত দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবিতে জামালপুর জেলার Dewangonj উপজেলার বাহাদুরাবাদ এলাকায় এক ব্যাপক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার সকালে Bahadurabad Ghat নৌ-টার্মিনালের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি) ও এর সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, বহু বছর ধরে দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ একটি বিকল্প ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে বাহাদুরাবাদ ও Balashi Ghat বালাসীঘাটের মধ্যবর্তী নদীপথে যাতায়াতের জন্য ফেরির ওপর নির্ভর করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল এবং অনেক ক্ষেত্রে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়িত হলে Jamalpur, Gaibandha, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুরসহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। এর ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিল্প-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির গতিশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
তারা দাবি করেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং উত্তরাঞ্চলের অবকাঠামোগত বৈষম্য দূর করতে এই সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পটি আলোচনায় থাকলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মাঝে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাই দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু শুধু একটি যোগাযোগ অবকাঠামো নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রতীক।
কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকার যদি দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে উত্তরাঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি নতুন যুগের সূচনা হবে।