ক্রীড়া ডেস্ক:

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এল’-এর ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে ক্যালেব ইরেনকির জয়সূচক গোলে পানামার বিপক্ষে নাটকীয় এক জয় তুলে নিয়েছে ঘানা। দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকার পর যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে শুরু থেকেই দুই দল সতর্ক ফুটবল খেললেও সুযোগ তৈরিতে কিছুটা এগিয়ে ছিল পানামা। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল তাদের। ডান প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে সেসিলিও ওয়াটারম্যানের নেওয়া শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স আতি জিগি।

প্রথমার্ধজুড়ে পানামা কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও, ঘানার রক্ষণভাগ ছিল দৃঢ়। অন্যদিকে কামালদীন সুলেমানা ও আর্নেস্ট নুয়ামাহর নেতৃত্বে ঘানাও প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা চালায়, তবে কাঙ্ক্ষিত সফলতা পায়নি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। মাঝমাঠের দখল নিয়ে দুই দলের মধ্যে তীব্র লড়াই দেখা যায়। পানামা কয়েকবার ঘানার বক্সে হুমকি সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি। অন্যদিকে ঘানাও আক্রমণে ধার বাড়ালেও ম্যাচের অধিকাংশ সময় প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয়।

যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছে, তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার পর যোগ করা সময়ে এক দ্রুত আক্রমণ থেকে কাঙ্ক্ষিত গোলটি পেয়ে যায় ঘানা। শেষ মুহূর্তের সেই গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে ঘানার খেলোয়াড় ও সমর্থকরা।

গোল হজমের পর শেষ সুযোগ হিসেবে কর্নারে নিজেদের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো মস্কেরাকেও প্রতিপক্ষের বক্সে পাঠায় পানামা। কর্নার থেকে তার হেডে বক্সে হুলস্থুল পরিস্থিতি তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ঘানার বদলি গোলরক্ষক বেনজামিন আসারে বল নিয়ন্ত্রণে এনে বিপদমুক্ত করেন।

এই জয়ের নায়ক ইয়েরেঙ্কি বর্তমানে ডেনমার্কের ক্লাব নরশেল্যান্ডে খেলেন। ঘানার বিখ্যাত রাইট টু ড্রিম একাডেমি থেকে উঠে আসা এই মিডফিল্ডারকে দেশটির সাবেক তারকা মাইকেল এসিয়েনের উত্তরসূরি হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে তার এই শেষ মুহূর্তের গোল ঘানার জন্য সুসংবাদ এলে দিল।