নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জাতীয় সংসদে বলেছেন, কেন প্রাথমিক পাস করা একজন স্টুডেন্ট সঠিকভাবে রিডিং পড়তে পারেনা? কেন জিপিএ-৫ পাওয়া একজন স্টুডেন্ট শুদ্ধভাবে ইংরেজিতে কথা বলতে পারে না। আমি মনে করি মেন্ডারিন কিংবা জার্মানি শেখার আগে অন্তত ইংরেজি ভাষায় বেসিক পড়তে পারা, বলতে পারা, লিখতে পারার শিক্ষাটা আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে দিলে যথেষ্ট ভালো দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারবে।

প্রস্তাবিত বাজেটের রাজস্ব আহরণ, ঋণনির্ভরতা, বিনিয়োগ পরিস্থিতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে কম বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রুমিন ফারহানা। বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সৎ টাকায় একজন সংসদ সদস্যের কি ঢাকায় প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি করা সম্ভব?

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা এ কথা বলেন।

তবে বক্তব্যের শুরুতে অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য বলেন, অর্থমন্ত্রী নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যের ওপর উৎসে কর ৫, ২ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন। এতে চাল, ডালসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কিছুটা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এরপর প্রস্তাবিত বাজেট কতটা বাস্তবসম্মত, সে প্রশ্ন তুলে একটি গল্প বলেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য, ওনার নাম ধরে নিলাম মফিজ। সেই সদস্যেরর মাসে বেতন যদি ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা হয়। এর বাইরে তাঁর কোনো গার্মেন্ট ব্যবসা নাই। তাঁর কোনো ইয়াবা ব্যবসা নাই। তাঁর কোনো অস্ত্রের ব্যবসা নাই। তাঁর কোনো অবৈধ ব্যবসা নাই। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন হলো ঢাকা শহরে তিন একর জায়গার ওপরে প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি করে সামনে একখানা সুইমিংপুল থাকবে; হরিণ, ম্যাকাও পাখি পুষবেন। কিন্তু তাঁর এই ১ লাখ ৭৬ হাজার সৎ টাকায় কি ঢাকায় তিন একর জায়গায় প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি করা সম্ভব? সম্ভব নয়।’

এরপর রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ঠিক একইভাবে যখন ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট আসে, তখন আমরা বুঝতে পারি এই বাজেটটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে। বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওপরই ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত এনবিআর আদায় করতে পেরেছে মাত্র ৩ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি।’