সিলেট প্রতিনিধি

“মাজারের আয়ের হিসাব স্বচ্ছ না থাকলে মানুষের আস্থা থাকবে না। দান করা অর্থ হাতে নয়, বাক্সে সংগ্রহ করতে হবে। মাজারের আয় থেকে সরকার এক পয়সাও নেবে না।”

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে দানবাক্স স্থাপন ও দানের ডেগ সিলগালার পর এবার হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজার পরিদর্শন করেছেন সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।

শুক্রবার জুমার নামাজের আগে মাজার মসজিদে দেওয়া বক্তব্যে মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও মাদকের আসর বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে নতুন কয়েকটি দানবাক্স স্থাপন করে জেলা প্রশাসন। একই সময় মাজারে থাকা দানের ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ সিলগালা করা এবং নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। তবে এ পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাজারের ভক্তরা।

হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজারে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, “ওলি-আউলিয়ারা এই মাটিতে শুয়ে আছেন। তাদের উসিলায় যেকোনো বিপদ-আপদ থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেন এটা আমরা বিশ্বাস করি। তাই এসব মাজার ও মসজিদের উন্নয়নে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।”

মাজার কেন্দ্রিক ‘মাস্টার প্ল্যান’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মাজারে মেডিকেল সেন্টার, নারীদের নামাজের সুব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে।”

দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “মানুষ চায় তার দানের টাকায় ভালো কাজ হোক এবং স্বচ্ছতা থাকুক। কেউ যেন আত্মসাৎ করতে না পারে। তখনই মানুষ মন খুলে দান করবে।

“মাজারের আয়ের হিসাব স্বচ্ছ না থাকলে মানুষের আস্থা থাকবে না। দান করা অর্থ হাতে নয়, বাক্সে সংগ্রহ করতে হবে। মাজারের আয় থেকে সরকার এক পয়সাও নেবে না।”

মাজারে মাদকের আসর বসার অভিযোগ নিয়ে সারওয়ার আলম বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ প্রায়ই আসে। এটি একদিকে আইনত অপরাধ, অন্যদিকে পবিত্র স্থানে বসে অপরাধ করা হচ্ছে।

“এ বিষয়ে এখন থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। মাজারে কেউ অপরাধ করলে তার শাস্তি দ্বিগুণ হবে এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”

“আমরা চাই স্বচ্ছতা ও সুন্দর পরিবেশ। তাহলেই ওলি-আউলিয়ারা যে উদ্দেশে এসেছিলেন, তা সাধিত হবে। এখানে এলেই যেন মনে পবিত্রতা অনুভব হয়, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে”, যোগ করেন জেলা প্রশাসক।