মোস্তফা কামাল মজুমদার

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের দুতিয়াপুর গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি পশুখাদ্যের গুদাম ও দুটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আজ ২১ জুন রবিবার রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের প্রায় ৫০ মিনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে গুদামে থাকা বিপুল পরিমাণ মুরগি ও গরুর খাদ্য এবং দোকানের মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুতিয়াপুর গ্রামের ব্যবসায়ী রতন মিয়ার মুরগি ও গরুর খামারের দুটি খাদ্য গুদামে হঠাৎ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পাশের দুটি দোকানেও আগুন লেগে যায়। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বরুড়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এবং প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির একটি নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস ইউনিট। তিনটি ইউনিটের দমকল কর্মীদের ৫০ মিনিটের আপ্রাণ চেষ্টায় রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দা মামুন মিয়া জানান, আগুনে গুদামে রক্ষিত মুরগি ও গরুর খাদ্য সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত এবং মোট ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

এদিকে এই অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৭ সালে লালমাই উপজেলা প্রতিষ্ঠা করা হলেও দীর্ঘ ৯ বছরেও এখানে কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আর কত বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়লে লালমাইয়ে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন হবে?

তারা জানান, উপজেলায় প্রায়ই ছোট-বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কিন্তু নিজস্ব ফায়ার স্টেশন না থাকায় পার্শ্ববর্তী বরুড়া বা কুমিল্লা সদর থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে আসতে আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। লালমাইয়ের সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষার্থে অনতিবিলম্বে এখানে একটি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।