টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনে আমরা সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছি, ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দিয়েছি। বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ এই হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। আর সরকার যারা গঠন করেছে তারা মাত্র চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করেছে। তার মানে যারা সরকার গঠন করেছে তাদের থেকেও বেশি জনমত হলো সংস্কারের পক্ষে, জুলাই সনদের পক্ষে।

তিনি বলেন, কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম ন্যাক্কারজনকভাবে এই বিএনপির সরকার গঠিত হওয়ার পর ক্ষমতায় একবার বসতে পেরে জনগণের এই স্বীকৃতিকে, এই গণভোটকে অস্বীকার করা শুরু করেছে। তারা এখন পর্যন্ত গণভোট রায় বাস্তবায়ন করে নাই। সংস্কার বাস্তবায়ন করে নাই। যদি সংস্কার বাস্তবায়ন না হয়, দেশে কোনো পরিবর্তন হবে না। আপনাদের হয়তো অনেকের মনে হতে পারে এই সংস্কার বুঝি আর কোনোভাবেই হবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান বুঝি ব্যর্থ হয়ে গেল।
.
তিনি মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়ে এনসিপি আয়োজিত পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন।Politics (Right)

 

.
নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকে বিএনপি বলেন, জামাত বলেন কিংবা আমরা যারা আছি, কেউ কোনোদিন কল্পনা করতে পারে নাই যে শেখ হাসিনাকে সরানো সম্ভব। সবাই ধরে নিয়েছিল শেখ হাসিনা যতদিন জীবিত আছে ততদিন তিনি ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু তাকে ক্ষমতা থেকে হটানো সম্ভব হয়েছিল। কেন সম্ভব হয়েছিল? আপনাদের অংশগ্রহণে, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে।

আজকে যারা জীবন দিল, যারা আহত হলো আমাদের তিরিশ হাজার আহত যোদ্ধা ভাই বোনেরা, তাদের এই আত্মত্যাগের মূল্য থাকবে না। মূল্যহীন হয়ে যাবে যদি দেশের কোনো পরিবর্তন না হয়। কারণ আমরা স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, আমাদের আন্দোলন শুধু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে না, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে না। আমাদের আন্দোলন হচ্ছে দেশ পরিবর্তনের আন্দোলন, রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলন। ফলে সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আমরা এসেছি।Politics

 

তিনি বলেন. আপনারা জানেন বিগত সময়ে বাংলাদেশ থেকে কয়েকশ বিলিয়ন টাকা, ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। যেই টাকাগুলো যদি দেশে থাকতো, কয়েকটা পদ্মা সেতু আমরা নিজেদের টাকায় বাংলাদেশে করতে পারতাম। কয়েকটা মেট্রো রেল আমরা নিজেদের টাকায় করতে পারতাম। আমাদের তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারতাম। শিল্প কারখানা নিশ্চিত করতে পারতাম। আমাদের দেশের মূল সমস্যা হলো সেই লুটপাট, টাকা পাচার। আপনাদের কাছে কি মনে হয় এই সরকারের সময়ে কোন দুর্নীতি, লুটপাট, টাকা পাচার হবে না? অবশ্যই হবে। কারণ তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নাই। আপনারা দেখবেন সংসদে অনেকগুলা ঋণখেলাপিকে নিয়ে আসা হয়েছে, যেই ঋণখেলাপিগুলা সরকারি দলের। যেই ঋণখেলাপি ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় কিন্তু সেই ঋণ তারা ব্যাংকে ফেরত দেয় না। ব্যাংকে আপনার আমার টাকা রাখি, আমানত রাখি। সেই টাকা তারা নিয়ে ব্যবসার নাম করে লোন নেয়। সেই লোন ফেরত দেয় না। তারা টাকাটা পাচার করে দেয়।

 

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, টাঙ্গাইল হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী সেই জেলাগুলোর একটি। যখন বাংলাদেশে উনিশটা জেলা ছিল তখনও টাঙ্গাইল ছিল। টাঙ্গাইল হচ্ছে সেই জেলাগুলোর একটি আগামীতে যদি সিটি কর্পোরেশন হয় তার মধ্যে সবার আগে দাবিদার যে জেলাগুলো থাকবে টাঙ্গাইল হচ্ছে তার মধ্যে একটি। আমরা আপনাদের কাছে কিছু জনরায় নিতে এসেছি। আমরা যখন সংসদে আমাদের সরকারি দলের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের কথা শুনি, আমরা যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যে সরকারদলের বিভিন্ন বড় বড় নেতৃবৃন্দের কথা শুনি, তখন আমাদের কাছে মনে হয় বাংলাদেশে আর কোন সমস্যা নাই। এই জন্য আমরা কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে আপনাদের কাছে ছুটে এসেছি। কারণ আপনারা আমরা সাধারণ জনগণ মানেই তো বাংলাদেশ। এখন সাধারণ জনগণকে রায় দিতে হবে এই সমস্যাগুলো আছে কি নাই। আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে রায় দিন।Demographics

তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন- এই টাঙ্গাইলে লোডশেডিং হয় কি হয় না? এই টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎ যায় কি যায় না? এক ভাই বলছেন, টাঙ্গাইলে ঠিকমতো বিদ্যুৎই আসে না। তাহলে বিদ্যুৎ যাওয়ার প্রশ্ন আসে কিভাবে? আমাদের কথা হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী থেকে শুরু করে যারা আপনারা আছেন, আমরা শুধুমাত্র আর ফাঁপা বুলি শুনতে চাই না। আমরা চাই আপনারা এই টাঙ্গাইল জেলার প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিবেন।

 

সমাবেশে এনসিপি ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার, টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহবায়ক কামরুজ্জামান শাওন, সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।