​খলিফা সাগর, পটুয়াখালী  প্রতিনিধি।

​পটুয়াখালী: বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা চরম জনদুর্ভোগের এক মর্মস্পর্শী চিত্র পাল্টাতে শুরু করেছে পটুয়াখালীতে। অবশেষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতা কাটিয়ে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে নিজস্ব অর্থায়নে এগিয়ে এলেন এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। পটুয়াখালী সদর উপজেলার ৯ নং ছোট বিঘাই ইউনিয়নের ‘অফিসের বাজার’ থেকে ‘কাজীর হাট’ ও ‘মাঝি বাড়ি’ পর্যন্ত যাতায়াতের প্রধান সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করেছেন অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটি পাকা হওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর কোনো সংস্কার না হওয়ায় এটি সম্পূর্ণভাবে যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। এর ফলে এই অঞ্চলের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং সরকারি-বেসরকারি চাকুরিজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। সবচেয়ে নির্মম বিষয় হলো, রাস্তাটি এতই ভাঙাচোরা ছিল যে জরুরি প্রয়োজনে কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা রিকশাও যাতায়াত করতে পারত না।
​সম্প্রতি এক প্রসূতি মাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ভাঙা রাস্তার ঝাঁকুনি ও তীব্র যাতায়াত কষ্টের কারণে রাস্তার ওপরই সন্তান প্রসব (ডেলিভারি) করতে বাধ্য হন তিনি। এই বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় মানুষ ক্ষোভ আর দুঃখে এই পাকা সড়কটির নাম দেন ‘ডেলিভারি রাস্তা’।যে রাস্তা দিয়ে একটা রিকশা বা অ্যাম্বুলেন্স চলতে পারত না, আজ মিজানুর রহমানের কারণে সেই রাস্তা আবার সচল হচ্ছে। আমরা তার এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির এই বেহাল দশা থাকলেও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য কিংবা প্রভাবশালী কোনো রাজনৈতিক দল এটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত কষ্ট দূর করতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন ছোট বিঘাই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান।
​তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে বর্তমানে রাস্তাটির সংস্কার ও রিপেয়ারিং কাজ পুরোদমে চলমান রয়েছে। এই মহৎ কাজে তিনি পাশে পেয়েছেন স্থানীয় সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে। সড়ক সংস্কারের এই মানবিক কার্যক্রমে মাঠে থেকে আরও সহযোগিতা করছেন:​কামাল হোসেন, সভাপতি, অফিসের বাজার।জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, অফিসের বাজার।জহিরুল ইসলাম, জেলা যুবদল নেতা।
​এই মানবিক উদ্যোগ প্রসঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান বলেন, জনগণের সাথে আমি অতীতেও ছিলাম, বর্তমানেও আছি এবং ভবিষ্যতে যতদিন মহান রব্বুল আলামীন আমাকে বাঁচিয়ে রাখবেন, ততদিন আমি বিঘাই ইউনিয়নের সকল জনগণের পাশে থাকবো, ইনশাআল্লাহ। মানুষের এই কষ্ট আমি সইতে পারিনি বলেই এই উদ্যোগ নেওয়া।
​সাবেক চেয়ারম্যানের নিজস্ব অর্থায়নে এই রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের জোয়ার বইছে। অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানের এই মানবিক উদ্যোগ প্রমাণ করেছে যে, সদিচ্ছা থাকলে কোনো পদে বা জনপ্রতিনিধিত্বে না থেকেও জনগণের প্রকৃত সেবক হওয়া সম্ভব।
​তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই সাময়িক সংস্কারের পাশাপাশি রাস্তাটির স্থায়ী ও টেকসই উন্নয়নের জন্য যেন দ্রুত সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (এলজিইডি) কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।