শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি,
ভাষা আলাদা, সংস্কৃতি ভিন্ন, মাঝখানে হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব আর দুটি দেশের সীমান্ত। তবুও ভালোবাসার কাছে হার মানল সব বাধা। চার বছর আগে ফেসবুকে শুরু হওয়া একটি পরিচয় শেষ পর্যন্ত রূপ নিল সংসারে। প্রেমিকার হাত ধরতে পাকিস্তানের লাহোর থেকে উড়ে এসে শরীয়তপুরের জাজিরায় বিয়ে করলেন ২৬ বছর বয়সী মোজাম্মেল হোসাইন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় পাকিস্তানের লাহোরের বাসিন্দা উর্দুভাষী মোজাম্মেল হোসাইনের সঙ্গে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মজিবর শিকদারের একমাত্র মেয়ে তানজিলার। পরিচয়ের পর নিয়মিত চ্যাটিং ও ভিডিও কলে কথা বলতে বলতে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর প্রেমের সম্পর্ক।
দীর্ঘ চার বছরের সেই সম্পর্ককে পরিণতি দিতেই শনিবার লাহোর থেকে সরাসরি জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের রহিম উদ্দিন মালাই মৃধাকান্দি এলাকায় প্রেমিকার বাড়িতে আসেন মোজাম্মেল। পরে মঙ্গলবার দুই পরিবারের সম্মতিতে স্থানীয় ইমামের মাধ্যমে শরিয়া অনুযায়ী তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
তানজিলা বলেন, ফেসবুকে পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে ভালো লাগা তৈরি হয়। এরপর সেই ভালো লাগা ভালোবাসায় রূপ নেয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মোজাম্মেল লাহোর থেকে বাংলাদেশে এসে আমাকে বিয়ে করেছেন। পরিবারের সম্মতিতে আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আমি স্বামীর সঙ্গে পাকিস্তানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
তানজিলার মা আসমা আক্তার বলেন, ছেলের পরিবারের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। মেয়েকে এত দূরে বিয়ে দিতে খারাপ লাগছে, তবে ছেলে ও তার পরিবার সম্পর্কে আমরা ইতিবাচক ধারণা পেয়েছি। তাই কোনো ভয় বা শঙ্কা নেই।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই। দ্রুত খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।